Tazakhobor.com

news blog logo
news menu leftnews menu right

সর্বশেষ খবর

২৪ ঘন্টায় সর্বাধিক পঠিত



Twiter

[ভিডিও] ‘তুই মাইক দে, দিচ্ছিস না কেন, এই স্পিকার শুনতে পাচ্ছিস না’ Print E-mail
Written by তাজাখবর.কম   
Monday, 24 June 2013 08:04

অশ্লীল আর অসংসদীয় বক্তব্যে আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ অধিবেশন। সরকারদলীয় এমপিদের মুহুর্মুহ প্রতিবাদ, ফাইল চাপড়ানি আর চিৎকার চেঁচামেচির মধ্যে অধিবেশনের সময় পার হয় ১৭ মিনিট।শ্বাসরুদ্ধকর এ সময়ের মধ্যে ৬ বারের মতো মাইক বন্ধ করার ঘটনাও ঘটে। চলতি সংসদে এটা নজিরবিহীন। পাশাপাশি চেয়ার ছেড়ে মারতে উদ্যত হওয়ার মতো চিত্রও দেখা গেছে। স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে, ‘তুই মাইক দে, দিচ্ছিস না কেন, এই স্পিকার শুনতে পাচ্ছিস না’ এমন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। বিএনপিদলীয় এমপি রেহেনা আক্তার রানু ২০১৩-১৪ সালের বাজেটের ওপর বক্তব্য রাখতে উঠলে এ চিত্র দেখা যায়। এ সময় সরকারদলীয় বেশির ভাগ এমপি টেবিলের ওপর ফাইল আছড়ে ফেলে ও চিৎকার করে প্রতিবাদ জানান। তারা সবাই স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে মাইক বন্ধের দাবি জানান। একই সঙ্গে রানুকে উদ্দেশ্য করে ‘চোপ, বেয়াদব, বের হয়ে যা, বিউটি কুইন বলে তাকে কটাক্ষ করা হয়। পাল্টা জবাবে বিরোধীদলীয় এমপিরাও টেবিল চাপড়ে এর প্রতিবাদ জানান। স্পিকার ৬ বার মাইক বন্ধ করলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিরোধীদলীয় এমপিরা। তারা স্পিকারকে অনিরপেক্ষ বলে মন্তব্য করেন।  এদিকে বাজেটের ওপর আলোচনার এক পর্যায়ে সরকারি দলের এমপি এম আবদুল লতিফ সংসদের পবিত্রতা নষ্টের প্রতিবাদে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ না নিয়ে সংসদ থেকে বেরিয়ে যান। এদিকে বাজেটের ওপর আলোচনার সময় স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলের এমপিরা। এর প্রতিবাদে তারা অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন। সরকারদলীয় এমপি ফজিলাতুন্নেছো বাপ্পী বাজেটের ওপর আলোচনার সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটাক্ষ করেন। এ সময় মাইক ছাড়াই বিরোধী দলের ভারপ্রাপ্ত চিফ হুইপ শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি এখনও মাইক বন্ধ করেননি। আমাদের এমপি রানু যখন বক্তব্য দেন তখন আপনি ৬ বার মাইক বন্ধ করেছেন। আর এখন মাইক বন্ধ করছেন না। এটা একপক্ষীয় আচরণ হচ্ছে। আপনি নিরপেক্ষ নন। আমরা আপনার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছি। একই সঙ্গে এর প্রতিবাদ জানাতে সংসদ অধিবেশন থেকে আমরা ওয়াকআউট করতে বাধ্য হচ্ছি। এর কিছুক্ষণ পরেই আবারও অধিবেশন কক্ষে ফিরে আসেন বিরোধীদলীয় এমপিরা।
এর আগে রানু ও বাপ্পী বক্তব্য দেয়ার সময় স্পিকার একাধিকবার তাদের মাইক বন্ধ করেন, কার্যপ্রণালী বিধির ২৭০ বিধির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েও তাদের নিবৃত্ত করতে পারেননি তিনি। তারা তাদের মতো করে নির্বিকারভাবে চালিয়ে যান কটূক্তি আর বিষোদগার। রানুর বক্তব্য শেষ হলে মাগরিবের নামাজের বিরতির সময় সরকারি দলের আসলামুল হক আসলাম এবং বিএনপি’র শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী  অধিবেশন কক্ষের ভেতরেই বাকযুদ্ধে লিপ্ত হন। বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে রেহানা আক্তার রানু একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আক্রমণ করে বলেন, ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি অফিসে না গিয়ে সেজেগুজে বসে ছিলেন। বিরোধী দলের কারও লাশ ছাড়া তিনি শপথ নেবেন না বলে পণ করেছিলেন। ফেনীর একজন ছাত্রদল নেতা নিহত হওয়ার খবর পাওয়ার পর তিনি হাসিমুখে অফিসে যান। এরপর তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে রবীন্দ্র সংগীত গাইতেও আসিনি।’ এরপর তার বক্তব্য ‘সরকারি দল গিরিঙ্গী করছে যেন বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ ছেড়ে চলে যায়।’ তিনি বলেন, তারা ওয়াকআউট করবেন, তবে সংসদ ছেড়ে চলে যাবেন না। এরপর  তিনি মতিউর রহমান রিন্টুর লেখা ‘আমার ফাঁসি চাই’ বইয়ের নাম উল্লেখ করে বলেন, এ বই পড়া শুরু করলে সরকারি দল ‘বান্দরে’র মতো লাফালাফি করবেন, ওয়াকআউটও করতে পারবেন না। গত বৃহস্পতিবার সংসদের অধিবেশনে খালেদা জিয়াকে বিষোদগার করে বক্তব্য দেয়া আওয়ামী লীগের সদস্য অপু উকিলকে আক্রমণ করে রেহানা আক্তার রানু বলেন, ‘গত ২০ জুন একজন হিন্দু সদস্য ফেনসিডিল খেয়ে, ইয়াবা খেয়ে আমাদের নেত্রীকে নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অন্ধকার জগৎ থেকে উঠে আসা নর্দমার কীটদের পক্ষেই সম্ভব, যিনি কুৎসা রটনা করেছেন, তিনি পলিটিক্যাল প্রসটিটিউট।’ তিনি বলেন, অপু উকিল পাকিস্তানি জেনারেল সিদ্দিক সালিকের যে বই এর কথা বলেছেন, সে ধরনের কোন বই নেই।  এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ইতিহাস নিয়ে তার লিখিত বক্তব্য থেকে পড়তে শুরু করলে স্পিকার তার মাইক বন্ধ করে ২৭০ বিধি অনুসরণ করে বাজেটের ওপর আলোচনার আহ্বান জানান। পরে আবার মাইক দিলে রানু আবারও বঙ্গন্ধুকে আক্রমণ করে বক্তব্য শুরু করেন। এ সময় আবারও তার মাইক বন্ধ করেন স্পিকার। এ সময় এমকে আনোয়ার, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী দাঁড়িয়ে তাকে মাইক দিতে বলেন। এ সময় সরকারি দলের সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, তারানা হালিম, আসলামুল হক আসলাম তাকে মাইক না দেয়ার জন্য সমস্বরে আহ্বান জানান। স্পিকার ২৭০ বিধি অনুসরণ করে বক্তব্য দেয়ার আহ্বান জানিয়ে আবারও তার  মাইক দেন। এরপর রানু বাজেট প্রসঙ্গ শুরু করেই বিকৃতভাবে অর্থমন্ত্রীর নাম উচ্চারণ করেন। এরপর তিনি বলেন, এ সরকারের আমলে অনেকের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে, ডেপুটি স্পিকার স্পিকার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তার সে স্বপ্নও ভঙ্গ হয়েছে। এরপর আবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আক্রমণ করেন রানু। জিয়া হত্যার পর বোরকা পরে পালানোর সময় সীমান্তে শেখ হাসিনা ধরা পড়েছিলেন বলেও তিনি বলেন। এ সময় স্পিকার আবার তার মাইক বন্ধ করে তাকে সতর্ক করেন। এরপর তিনি সরকারি সংসদ সদস্যদের আক্রমণ করে বলেন, ‘বিশ^ সুন্দরী প্রতিযোগিতায় প্রত্যাখ্যাত প্রিন্সেস টিনা খান, প্রিন্সেস জরিনা সুন্দরীরা এখন সংসদে। ফেনসিডিল খেয়ে তারা আবোল তাবোল বলছেন।’ এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র জয়কে আক্রমণ করে বক্তব্য রাখেন। এরপর তিনি বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবেদীন ফারুকের ওপর দুই পুলিশ সদস্যের হামলার প্রসঙ্গ টেনে আবারও বঙ্গবন্ধুকে আক্রমণ করেন। সবশেষে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব মাহবুব আলম শাকিলের বিরুদ্ধে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক নারী কর্মকর্তাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তোলেন।
মাগরিবের নামাজের বিরতির পর প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় বক্তব্য শুরু করেন আওয়ামী লীগের এডভোকেট ফজিলাতুননেসা বাপ্পী। তিনি তার বক্তব্যে আগের দিন অপর সদস্য অপু উকিলের বক্তব্যের উদাহরণ টেনে বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কল্পিত জন্ম ইতিহাস নিয়ে বক্তব্য রাখেন। অনেকটা রানুর ভাষার পুনরাবৃত্তি করে তারেক রহমান, আরাফাত রহমান সহ বিরোধী দলের সদস্যদের মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। বাপ্পীর বক্তব্যের সময় স্পিকার দু’দফা মাইক বন্ধ করে তাকে বিধি অনুসরণ করে বাজেটের ওপর আলোচনার আহ্বান জানান। তবে বাপ্পী তার বক্তব্যের শেষে দাবি করেন, তিনি শিক্ষিত, সুশীল পরিবেশে বড় হয়েছেন, এ কারণে তিনি বা তার দলের সদস্যরা বিরোধী দলের সদস্যদের মত অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ করতে পারেন না! এ দিকে রানুর বক্তব্যের শেষে মাগরিবের নামাজের বিরতি হলে আওয়ামী লীগের সদস্য তারানা হালিম, আসলামুল হক আসলাম সহ কয়েকজন সদস্য আসন ছেড়ে সামনে আসেন। এক পর্যায়ে আসলামুল হক আসলাম এবং শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী পরস্পরের দিকে আঙুল উঁচিয়ে বাকযুদ্ধে লিপ্ত হন।
নজিরবিহীন ঘটনার হোতা
এমএ লতিফ
সংসদে  নজিরবিহীন ঘটনার হোতা হয়ে দাঁড়ান চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত এমপি এম আবদুল লতিফ। সংসদে অরুচিকর বক্তব্য ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহারের প্রতিবাদ জানাতে অধিবেশন থেকে স্থান ত্যাগ করেন তিনি। চলতি সংসদে সরকারি দলের কোন এমপির এ ধরনের ঘটনা এটাই প্রথম। বাজেটের ওপর বক্তব্য দিতে রাত সোয়া আটটায় স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী তাকে ফ্লোর দেন। এজন্য তাকে সময় দেয়া হয় ১০ মিনিট। এ সময় তিনি দাঁড়িয়ে বলেন, বাজেটের ওপর আলোচনার জন্য আমি দীর্ঘক্ষণ প্রতীক্ষা করেছি। কিন্তু এই পবিত্র সংসদে কতিপয় এমপি অশালীন ও অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করে সংসদের পবিত্রতা নষ্ট করেছেন। জনমানুষের মনে সংসদ ও আমাদের বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাই যারা আজ এই পবিত্র সংসদকে অপবিত্র করেছেন তাদের প্রতিবাদে আমি বাজেটের ওপর আলোচনা না করে আমি এই স্থান ত্যাগ করছি। এ সময় বিরোধী দলের এমপিরা টেবিল চাপড়ে ও হাততালি দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। এ সময় আবারও মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে এম আবদুল লতিফ বলেন, আমি এ প্রতিবাদ করছি কোন দলের কিংবা কারও পক্ষের হয়ে নয়। আমি প্রতিবাদ করছি কতিপয় এমপির অসংসদীয় ভাষা ব্যবহারে। বিরোধী দলীয় এমপিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা কেন হাততালি দিচ্ছেন? হাততালি দিতে আপনাদের লজ্জা করা উচিত। এরপরই নিজের ফাইল নিয়ে সংসদ অধিবেশন ত্যাগ করেন এম আবদুল লতিফ। এ সময় সংসদে অনেকটা পিনপতন নীরবতা লক্ষ্য করা যায় । বিরোধী দলীয় এমপিরাও টেবিল চাপড়ানি বন্ধ করে চুপ করে থাকেন। অপরদিকে সরকারি দলের এমপিরা এ ঘটনায় কিছুটা বিস্মিত হন। স্পিকারও  তার দিকে তাকিয়ে কিছু সময় চুপ থাকেন। ঘটনায় হতবিহ্বল স্পিকার কিছু সময় পরে বাজেটের ওপর আলোচনার জন্য ফ্লোর দেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদকে। সূত্র:মানবজমিন



Last Updated on Monday, 24 June 2013 10:05
 



Tazakhobor.

Privacy Policy  Contact Us