বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman) ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বব্যাপী সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, ধ্বংস নয়, প্রতিশোধ নয়—ভালোবাসা, পরমতসহিষ্ণুতা, শান্তি ও সৌহার্দ্যের সমাজ গড়ে তোলাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। নতুন বছরের সূচনায় তিনি এমন একটি সমাজব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন, যেখানে সহনশীলতা ও মানবিকতা হবে প্রধান চালিকাশক্তি।
ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছাবার্তায় তারেক রহমান বলেন, নতুন বছরে তিনি দেশ-বিদেশের সকল মানুষের জন্য অনাবিল আনন্দ, শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। শুভ নববর্ষ জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন বছর সবার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে আসবে।
তিনি বলেন, গত বছরের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই নববর্ষের নতুন বার্তার জন্ম হয়। পুরোনো বছরের গ্লানি, ব্যর্থতা ও বেদনাকে পেছনে ফেলে নতুন বছর আমাদের সামনে নতুন আশা, আনন্দ ও সমৃদ্ধির দুয়ার খুলে দেয়। ১ জানুয়ারি তথা ইংরেজি নববর্ষ আজ আন্তর্জাতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের নানা জাতিগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে এই উৎসবের পরিসর আরও বিস্তৃত করেছে, যা এখন বৈশ্বিক সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, নববর্ষ কেবল একটি উৎসবের দিন নয়; এটি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও চেতনার প্রতিচ্ছবি। নতুন বছরে আমরা নতুন করে স্বপ্ন দেখি একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার। এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যাশা আমাদের, যেখানে প্রতিটি নাগরিক গুরুত্বপূর্ণ হবে এবং প্রত্যেকের কণ্ঠ থাকবে স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ।
তারেক রহমান বলেন, গত বছরটি এখনও আমাদের স্মৃতিতে জাগ্রত। অর্জন ও সাফল্যের পাশাপাশি তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রণা আমাদের একদিকে যেমন আনন্দিত করেছে, অন্যদিকে গভীরভাবে বেদনাহতও করেছে। এসব অভিজ্ঞতা থেকেই আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।
নতুন বছরের অঙ্গীকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জবাবদিহিমূলক সরকার গঠন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং সামগ্রিকভাবে গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। তার অভিযোগ, গণবিরোধী পরাজিত শক্তি দীর্ঘদিন ধরে জনগণের মৌলিক অধিকার বন্দী করে রেখেছিল। এখন সময় এসেছে সব গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করার।
তিনি আরও বলেন, নববর্ষ সবার জীবনে নতুন প্রাণের স্পন্দন, নতুন আশা ও নতুন সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে আসে। অমিত সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ। চিরদিনের জন্য দূর হয়ে যাক সব অন্যায়, উৎপীড়ন ও নির্যাতন।
বিশ্ব পরিমণ্ডলে প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ইংরেজি নববর্ষ। তাই নতুন বছরকে বরণ করে নিতে বিশ্বজুড়ে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য উৎসব। এই উপলক্ষে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে সব বাধা অতিক্রম করে সংগ্রামমুখর জীবনের ঐতিহ্যকে ধারণ করে জাতিকে এগিয়ে নিতে হবে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে।
বার্তার শেষাংশে তিনি পুনরায় উচ্চারণ করেন, নববর্ষে আমাদের কণ্ঠে ধ্বনিত হোক—‘ধ্বংস নয়, প্রতিশোধ নয়; আসুন- ভালোবাসা, পরমতসহিষ্ণুতা, শান্তি ও সৌহার্দ্যের সমাজ গড়ে তুলি।’ এই চেতনার মধ্য দিয়েই মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণ সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


