রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসন নিয়ে এবার জমে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াত জোটের লড়াই। অতীতে এই অঞ্চলের বেশিরভাগ আসনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ (Awami League) আধিপত্য বজায় রাখলেও, চট্টগ্রাম-১৫ সাতকানিয়া ছিল জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি। তবে এবারের নির্বাচনে দৃশ্যপট অনেকটাই ভিন্ন। বিএনপি ১৬ আসনেই জয় নিশ্চিত করতে মরিয়া, অন্যদিকে জামায়াতের ভরসা নতুন প্রজন্মের ভোটার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ঢাকা (Dhaka)–র পর চট্টগ্রামের আসনগুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই এখানে সব দলই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিগত নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (Oli Ahmed) জোরালো অবস্থানে ছিলেন। এবার তার ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুককে সমর্থন দিয়ে জামায়াত এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিজেদের প্রার্থী প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর ফলে বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে এই আসনেও।
চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে এনসিপির পক্ষ থেকে জুবাইরুল আরিফ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার প্রধান প্রতিপক্ষ হচ্ছেন বিএনপির এরশাদ উল্লাহ। অতীত নির্বাচনে এই আসনে জামায়াতের অবস্থান ছিল অনেক পিছনে, কিন্তু এবার জোটের সমর্থনে চিত্র বদলাতে পারে।
তবে বিগত নির্বাচনের ফল, দলের সাংগঠনিক শক্তি, প্রার্থীদের পরিচিতি এবং জনপ্রিয়তার বিচারে বিএনপি এখনও এগিয়ে রয়েছে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং সংখ্যালঘু ভোটের পুনঃবণ্টন বিএনপির জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (Amir Khasru Mahmud Chowdhury) বলেন, “এবারের সুযোগকে কাজে লাগাতে চায় বিএনপি। উন্নয়নের জন্য চট্টগ্রামের মানুষ বিএনপিকেই বেছে নেবেন। আমরা প্রত্যাশা করছি ১৬টি আসনেই বিজয়।”
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “আমরা মনে করি, এবার চট্টগ্রামে আগের হিসাব মিলবে না। তরুণ ভোটাররা এবার ফয়সালা করে দিতে পারে।”
সবমিলিয়ে চট্টগ্রামের ভোটযুদ্ধে এবার উত্তাপ ছড়াচ্ছে নতুন সমীকরণ। জোট, প্রার্থী ও কৌশল বদলেছে—আর তার প্রভাব পড়বে ব্যালটেও।


