কারাগারে সুরভীর কাছে ‘গুম হওয়া জবি ছাত্রী’ পরিচয় দেওয়া কে এই তানজিলা ? কে মিথ্যাচার করছে সুরভী নাকি তানজিলা ?

কারামুক্তির পর তানজিলা তাবাসসুম নামে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক ছাত্রীকে কারাগারে ‘গুম’ করে রাখার অভিযোগ তুলেছিলেন জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভী। গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেস ব্রিফিংয়ে এমন অভিযোগ করেন তিনি। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তানজিলা তাবাসসুম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন।

বুধবার প্রেস ব্রিফিংয়ে তাহরিমা জান্নাত সুরভী অভিযোগ করে বলেন, আমার সাথে জেলে আরেকটা মেয়ে ছিল, সে হচ্ছে জগন্নাথ ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট তানজিলা তাবাসুম, অর্থনীতি নিয়ে পড়তেছে সেকেন্ড ইয়ারে। ওই মেয়েটাকে পুরা গুম করে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমার ফ্যামিলি তো জানে আমি জেলে, কিন্তু ওর ফ্যামিলি জানে যে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে। আর ওর ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্টরা জানে ও বাসায়। এভাবে স্টুডেন্টদের মুখ কেন বন্ধ করা হচ্ছে? ওই মেয়েটাও সেইম, আমার মত প্রতিবাদী কন্ঠ ছিল। আমাদের মত প্রতিবাদী কন্ঠ ছিল এমন মেয়েকে এভাবে জেলে গুম করে রাখা হয়েছে, পরিবার জানে না, ইউনিভার্সিটিও জানে না। এভাবে আমাদের কন্ঠরোধ করে রাখা হয়েছে কেন?

পরে জানতে চাইলে সুরভী জানিয়েছিলেন, কারাগার থেকে বের হওয়ার আগের দিন ওই নারীর সঙ্গে কথা হয়েছিল তার। তিনি জানান, তানজিলার বাবার নাম রুবেল মিয়া এবং তার নারায়ণগঞ্জে তার নানার বাড়ি। তানজিলার ব্যাপারে এর অতিরিক্ত কোনো তথ্য তিনি জানেন না।

এ বিষয়ে গত বুধবারই কথা হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শরীফ মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে। তানজিলা তাবাসসুম নামে দ্বিতীয় বর্ষের কোনো শিক্ষার্থী আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নাম শুনে সঠিক বলতে পারছি না। এই নামে কেউ আছে কি না সেটাও নিশ্চিত করতে পারছি না।’

বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন অধ্যাপক শরীফ মোশাররফ হোসেন। পরে যোগাযোগ করা হলে অর্থনীতি বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. রওশন আলী জানান, বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে এ নামে কোনো ছাত্রী নেই। এমনকি প্রথম বর্ষ উত্তীর্ণ হওয়া অন্তত চারটি ব্যাচ খুঁজেও এমন কোনো নাম খুঁজে পাননি তিনি।

সুরভীর অভিযোগে তানজিলা তাবাসসুমের ‘গুম’ থাকার বিষয়ে বলা হলেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৭ ডিসেম্বর মধ্যরাতে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের একটি এলাকা থেকে তাকে আটক করে মহানগর পুলিশ (জিএমপি)। পরে বাসন থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাকে। পরদিন তাকে আদালতে প্রেরণ করা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ওই দিন কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

জানতে চাইলে মামলার বিবরণের বরাত দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সজিব বলেন, তানজিলা তাবাসসুম বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর স্বামীর টাকা-পয়সা নিয়ে পালিয়ে যায়, এ সংক্রান্ত একটা পিটিশন আছে আদালতে। এ ছাড়া গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করে বিভিন্ন জনকে আইনি সহায়তা দেওয়ার কথা বলে ঘনিষ্ঠতা তৈরির পর ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সদস্যরাও তার প্রতারণার টার্গেটে ছিলেন। পরে একটি গোয়েন্দা সংস্থার বিচক্ষণতায় তিনি ধরা পড়েন।

তানজিলা তাবাসসুমের গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানায়। তিনি ওই থানার পয়সা পশ্চিম পাড়া গ্রামের মৃত রুবেল মিয়ার মেয়ে। সুরভীর কাছে নিজেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে দাবি করলেও পুলিশ বলছে, তিনি এইচএসসিও পাস করেননি। তানজিলার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সজিব জানান, পরিবারের অজ্ঞাতে তানজিলাকে গুম করে রাখার অভিযোগটিও ভুয়া। এমনকি আটক হওয়ার পর তানজিলা নিজেই তার পরিবারের সদস্যদের নিজের আটকের বিষয়টি জানিয়েছিলেন।

এদিকে আটকের পর তানজিলা পুলিশের কাছে নিজের পরিবারের সদস্য উল্লেখ করে একটি মুঠোফোন নম্বর দিয়েছিলেন। তার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ও পুলিশের বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে ওই মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। সূত্র : দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *