বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, গুলিতে নিহত মুছাব্বিরের পরিবারকে আজীবন সহায়তা দেবে বিএনপি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে আজ শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে বসুন্ধরা সিটি শপিং মলসংলগ্ন মুছাব্বিরের বাসায় তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে যান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি মুছাব্বিরের স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দলের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘মাননীয় (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আমি আজ এখানে এসেছি। মুছাব্বিরের পরিবার ও সন্তানদের সারা জীবনের জন্য যা কিছু প্রয়োজন, দল হিসেবে আমরা সেই দায়িত্ব পালন করব, ইনশা আল্লাহ।’
এ সময় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মুছাব্বির অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। সিসিটিভি ক্যামেরা (ক্লোজড সার্কিট) ফুটেজে যেভাবে দেখা গেছে, তাতে মনে হয়, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলছে। তবে আমরা মনে করি, যাঁরা নির্বাচন ও গণতন্ত্রের বিরোধী, সেই পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের দোসররা এই ষড়যন্ত্রের পেছনে থাকতে পারে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, ‘যারা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারলে লাভবান হবে, সেই অপশক্তি এর পেছনে আছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আমাদের অনুরোধ, দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে ব্যবস্থা নিন।’
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘৫ আগস্ট–পরবর্তী পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো পুরোপুরি সুসংহত নয়। পুলিশ বাহিনীকে সহযোগিতায় সেনাবাহিনী কাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা একটি চ্যালেঞ্জ। তবে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটিয়ে যারা নির্বাচনকে পণ্ড করতে চায়, তারা সফল হবে না।’
সালাহউদ্দিন আহমদ ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে প্রশাসনের প্রতি আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘ঘটনা ঘটার পর তদন্ত না করে, এমন দুর্ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য আগে থেকেই সতর্ক থাকতে হবে।’
দলের পক্ষ থেকে দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা বলেন, ‘মাননীয় (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আমি আজ এখানে এসেছি। মুছাব্বিরের পরিবার ও সন্তানদের সারা জীবনের জন্য যা কিছু প্রয়োজন, দল হিসেবে আমরা সেই দায়িত্ব পালন করব, ইনশা আল্লাহ।’
গত বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে তেজগাঁওয়ের তেজতুরী বাজারে স্টার কাবাবের পেছনের একটি গলিতে মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কারওয়ান বাজার ভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ানও গুলিবিদ্ধ হন।


