গত ১৬ মাসে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন তিনি—এমন দাবিতে শনিবার এক অনুষ্ঠানে ক্ষোভ উগরে দেন অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল (Asif Nazrul)। ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে একের পর এক ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে, অথচ এসব প্রচারে জড়িতদের কেউ থামায়নি।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, “আমি চ্যালেঞ্জ করে বললাম, গত ১৬ মাসে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার আমি হয়েছি। প্রথম চার মাসেই চারটা ডেডিকেটেড ভিডিও বানানো হয়েছে আমাকে টার্গেট করে। কেউ এই ভিডিওগুলো বন্ধ করেনি, প্রশ্নও করেনি—এর চেয়ে বড় সাইবার বুলিং আর কী হতে পারে?”
তিনি বলেন, “আমি ১৫ বছর ছিলাম পাকিস্তানের দালাল, হঠাৎ এক রাতে হয়ে গেলাম ভারতের দালাল। বলা হলো, আমার আমেরিকায় বাড়ি আছে, পরিবার চলে গেছে। আজ থেকে ছয় মাস আগে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম—এমন প্রমাণ কেউ দেখাক। কেউ পারেনি। মিথ্যা, ব’দ’\মা’\ই’\শ যারা এগুলো প্রচার করেছে, তাদের কিছু বলা হয়েছে? আমার জীবনে সততা সবচেয়ে বড় অহংকার, অথচ এই সুনামের বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন হয়েছে।”
সম্প্রতি আলোচিত জুলাইয়ের মামলাগুলোতে জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের কোনো ভূমিকা নেই দাবি করে আসিফ নজরুল বলেন, “জুলাইয়ের ঘটনায় যত জামিন হয়েছে, তার ৯০ শতাংশ হয়েছে হাইকোর্ট থেকে। আমি কি হাইকোর্টের বিচারককে সরাতে পারি? এটা যদি অন্যায় হয়, তাহলে বিচারকের দোষ। বিচারকদের অনেকে আওয়ামী লীগ (Awami League) ফ্যা’\সি’\স্ট আমলে নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের অপসারণের দায়িত্ব প্রধান বিচারপতির অধীনে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের।”
তিনি বলেন, “আপনারা কি প্রধান বিচারপতিকে প্রশ্ন করেছেন? হাইকোর্টের বিচারক জামিন দিলে আমি দায়ী হই কেন? সব কিছু আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক দায় মোচনের চেষ্টা হচ্ছে। এসব বন্ধ করতে চাইলে যাদের হাতে দায়িত্ব, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনুন।”
ড. আসিফ নজরুল অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও দোষারোপের পেছনে স্পষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তিনি বলেন, “এই দায়টা আমার ওপর দুইটা কারণে দেওয়া হয়। এক, আমার বিরুদ্ধে কিছু বললে ভিউ বেশি হয়, মনিটাইজেশন হয়, ব্যবসাটা ভালো চলে। দুই, রাজনৈতিক এজেন্ডা—আসিফ নজরুলকে দুর্বল করলে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণ সহজ হয়।”
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, “আমি কি হাইকোর্টের বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি? আমি কি আইনমন্ত্রী? অথচ সব দায় আমার ওপর চাপানো হয়। এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সত্যিকারের জবাবদিহি চাইলে সঠিক জায়গায় প্রশ্ন তুলুন।”
অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (CGS)। পলিসি ডায়ালগে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করেন বক্তারা।


