নোয়াখালী-২ (Noakhali-2) আসনে জোট মনোনীত প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর (Jamaat-e-Islami) কর্মী-সমর্থক ও ভোটাররা বিক্ষোভ করেছেন। সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সেনবাগ রাস্তার মাথায় আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন—জনবিচ্ছিন্ন কাউকে চাপিয়ে দেওয়া হলে তারা ভোট বর্জন করবেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, জোট মনোনীত এনসিপি (NCP) নেতা সুলতান জাকারিয়া এলাকায় সম্পূর্ণ অপরিচিত। তার কোনো রাজনৈতিক শেকড় নেই, জনগণের সঙ্গে যোগাযোগও নেই। তাই এমন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলে সাধারণ মানুষ ভোট কেন্দ্রে যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এ সময় তারা সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় ও পরিচিত মুখ মাওলানা সাইয়েদ আহম্মদকে জোটের প্রার্থী করার দাবি তোলেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা মানববন্ধন শেষে সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধরা, ফলে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। কর্মীদের হুঁশিয়ারি—দলীয় সিদ্ধান্তে পরিবর্তন না এলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
“এটি দলের কর্মসূচি নয়”—জেলা আমির
তবে বিক্ষোভকে দলীয় কর্মসূচি হিসেবে মানতে নারাজ জেলা জামায়াত। নোয়াখালী জেলা জামায়াত (Noakhali Jamaat)-এর আমির ইসহাক খন্দকার জানান, “এটি আমাদের সংগঠিত কোনো কর্মসূচি নয়। অতি উৎসাহী কিছু কর্মী না বুঝে বিক্ষোভে নেমেছে।”
তিনি বলেন, “আমরা তাদের ডেকে বলেছি এটা অন্যায় হয়েছে। তাদের কর্মকাণ্ড দল অনুমোদন করে না। মাওলানা সাইয়েদ আহম্মদকে দ্রুত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।”
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জোটের সিদ্ধান্তে অনড় থাকলেও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের মতে, মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন পরিচালনায় সক্রিয় সাইয়েদ আহম্মদের মতো পরিচিত মুখকে বাদ দিয়ে একজন অপরিচিত প্রার্থীকে চাপিয়ে দেওয়া হলে তা গণভিত্তির জন্য হুমকি হতে পারে।


