ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল নতুন মাত্রা পেয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এখনো অর্ধশতাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের মাঠে রয়ে গেছেন। এর মধ্যে অন্তত ২০ জন প্রার্থী ‘হেভিওয়েট’ হিসেবে পরিচিত, যারা নিজ নিজ এলাকায় রাজনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে আছেন।
দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচন করা স্বতন্ত্রদের অনেকেই অতীতে ওয়ান-ইলেভেনের দমন-পীড়নের সময়ও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। ফলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল।
**নাটোর-১
বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা তাইফুল ইসলাম টিপু।
মুন্সীগঞ্জ-৩:
দলীয় প্রার্থী কেন্দ্রীয় নেতা কামরুজ্জামান রতনের বিপরীতে স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন।
সাতক্ষীরা-৩:
বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিনের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম।
মানিকগঞ্জ-১ ও ৩:
মানিকগঞ্জ-১–এ এসএ জিন্নাহ কবীরের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক তোজা।
মানিকগঞ্জ-৩–এ স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আতা সংবাদ সম্মেলনে জানালেন, “এখন আমি দলের নই, জনগণের প্রার্থী।”
নোয়াখালী-৬:
ধানের শীষ পেয়েছেন মাহবুবুর রহমান শামীম। কিন্তু সাবেক এমপি মোহাম্মদ ফজলুল আজিম, তার স্ত্রী শামীমা আজিম ও প্রকৌশলী তানভীর উদ্দিন রাজীবও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।
টাঙ্গাইল-৫:
দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল।
নারায়ণগঞ্জ-২:
সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।
কুমিল্লা-২:
এমএ মতিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সিলেট-৫:
জমিয়তের মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বিএনপির সমর্থিত হলেও মাঠে রয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন)।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২:
জমিয়তের মুফতি জুনায়েদ আল হাবিবকে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন সাবেক এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
নারায়ণগঞ্জ-৪:
জমিয়তের মুফতি মনির হোসেন কাসেমীর পাশাপাশি মাঠে রয়েছেন সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও শাহে আলম—দুজনই বহিষ্কৃত হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে রয়েছেন।
যশোর-৫:
জমিয়তের মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাস ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হলেও, আগে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়া ইকবাল হোসেন স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচনে আছেন।
ঢাকা-১২:
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী। কিন্তু যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নিরব স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করছেন। তিনি বলছেন, “বহিষ্কৃত হলেও নির্বাচন ছাড়ছি না।”
ঝিনাইদহ-৪:
গণঅধিকার পরিষদের সাবেক নেতা রাশেদ খান ধানের শীষের প্রার্থী হলেও, সাবেক ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এখানে শক্ত প্রতিপক্ষ হয়ে স্বতন্ত্রভাবে লড়ছেন।
-
বগুড়া-২ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্না কেটলি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন, তবে বিএনপির শাহে আলমও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
-
পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরুল হক নুর ধানের শীষের সমর্থন পেলেও, স্বতন্ত্রভাবে মাঠে আছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা হাসান মামুন।
তারেক রহমানের তৎপরতা:
প্রত্যাহারে রাজি করাতে প্রতিদিনই গুলশান কার্যালয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। কিন্তু স্থানীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান এবং ত্যাগের ইতিহাসের কারণে অনেকে এখনো প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করার অবস্থানে অনড়।
বিশ্লেষকদের মতে, এত সংখ্যক বিদ্রোহী প্রার্থীর উপস্থিতি বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের জন্য ভোটের মাঠে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।


