হাইকোর্টের (High Court) আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণ করে জাতীয় সংসদের পাবনা-১ ও ২ আসনের নতুন সীমানা নির্ধারণ করে ভোটগ্রহণের শিডিউল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। বৃহস্পতিবার রাতে ইসি সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৮ জানুয়ারি। এরপর বাছাই, আপিল ও প্রতীক বরাদ্দসহ অন্যান্য কার্যক্রম শেষে ভোটগ্রহণ হবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি।
তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই ১৯ জানুয়ারি, আপিল গ্রহণ ২০ থেকে ২৪ জানুয়ারি, নিষ্পত্তি ২৫ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত এবং প্রতীক বরাদ্দ হবে ২৭ জানুয়ারি।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ইসি প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী পাবনা-১ ও ২ আসনের নতুন সীমানা নির্ধারণ করে নির্বাচন করার ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা নেই বলে আদেশ দেয় আপিল বিভাগ। এর ফলে, ১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৮টি আসনের সঙ্গে পাবনা-১ ও ২ আসনের ভোটও একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে।
সীমানা পরিবর্তনের পটভূমি
এর আগে নির্বাচন কমিশনের গেজেট অনুযায়ী, পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে সেগুলো পাবনা-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এই পরিবর্তনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্ট এই গেজেটকে অবৈধ ঘোষণা করে। তবে বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে নির্বাচন আয়োজনের অনুমতি দেয়।
আদালতের এই আদেশের পর পাবনার সাথিয়া উপজেলা এখন পাবনা-১ হিসেবে এবং সুজানগর ও বেড়া মিলে পাবনা-২ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এর আগে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্বাচন কমিশন আদালতের নির্দেশে পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত রাখে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত ১৩ জানুয়ারি আপিল বিভাগে আবেদন করেন পাবনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর (Jamaat-e-Islami) প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন (Najibur Rahman Momen)। তার আবেদনে যথাসময়ে ভোটগ্রহণ ও নির্বাচনী কার্যক্রম শুরুর নির্দেশনা চাওয়া হয়।
এদিকে কুমিল্লা-২ আসন নিয়েও আদালতের রায় রয়েছে। তবে কুমিল্লা-২ আসনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্বাচন কমিশনে না পৌঁছানোয় ওই আসন সম্পর্কে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি ইসি।


