ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (Islami Andolon Bangladesh)-এর একক নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং জামায়াত নিয়ে কটাক্ষমূলক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পাল্টা বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এ প্রতিক্রিয়া জানান।
জুবায়ের বলেন, “ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান সংবাদ সম্মেলনে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একজন নেত্রীর বরাত দিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ অসত্য। আমাদের পক্ষ থেকে প্রেস ব্রিফিং চলাকালেই বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “গাজী আতাউর রহমান বলেছেন—জামায়াতে ইসলাম ‘আল্লাহর আইন ও ইসলামী আদর্শ থেকে সরে গেছে’। এটি সঠিক নয়। বরং আমাদের সংগঠন আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর আদর্শের আলোকে পরিচালিত একটি ইসলামী আন্দোলন। জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির জন্যই তিনি এমন বক্তব্য দিয়েছেন বলে আমরা মনে করি।”
অ্যাডভোকেট জুবায়ের দাবি করেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবসময় রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রেখে কাজ করে থাকে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমরা পারস্পরিক সম্মান ও সৌজন্যের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলি। তাই বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া থেকে গাজী আতাউর রহমানকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”
এর আগে পুরানা পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জানায়, তারা জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটে যাচ্ছে না এবং এককভাবে ২৬৮ আসনে নির্বাচন করবে।
জোটে না যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গাজী আতাউর রহমান বলেন, “পীর সাহেব চরমোনাই ইসলামী শক্তির ওয়ানবক্স পলিসি প্রস্তাব করেছিলেন। শুরুতে অনেকে একমত হলেও পরে দেখা গেছে কেউ কেউ রাজনৈতিক স্বার্থে, কেবল ক্ষমতার আশায় সেই পলিসিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছে। আমরা সেই ভিন্নধারার অংশ হতে পারি না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করে বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা করবেন না। সেই খ্রিস্টান নেত্রী নাকি বলেছেন, আমরা জামায়াতের আশ্বাসে সন্তুষ্ট হয়েছি। এই প্রতিশ্রুতি থেকেই স্পষ্ট, জামায়াত ইসলামি আদর্শ থেকে সরে গেছে। তখনই আমাদের উপলব্ধি হয়, আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য এই জোটের মাধ্যমে অর্জিত হবে না।”
আতাউর রহমান বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে ইসলামের আলোকে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে আসছি। এখন সেই আদর্শ থেকে বিচ্যুতি ঘটলে তা হবে আমাদের নেতাকর্মী ও জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।”
এই আদান-প্রদান মূলত রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শিক পার্থক্যকে আরও উন্মোচিত করেছে। একদিকে ইসলামী আন্দোলন নির্বাচনে এককভাবে লড়াইয়ের সিদ্ধান্তে অনড়, অন্যদিকে জামায়াত তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছে।


