বরগুনার পাথরঘাটায় বিএনপির দুই নেতাকে কুপিয়ে জখমের মামলায় জামায়াত নেতা বজলুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে পাথরঘাটা পৌর শহরের ঈমান আলী সড়কের নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সম্প্রতি পাথরঘাটায় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দেয়। গত ১২ জানুয়ারি পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে জামায়াতের বায়তুলমাল সম্পাদক নাসির উদ্দিনকে ওপর হামলা করে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি কর্মী নুর আলমের বিরুদ্ধে।
গত ১৩ জানুয়ারি চরদুয়ানী ইউনিয়নের খলিফারহাট চৌরাস্তায় ৬নং ওয়ার্ডের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম বেপারী এবং উপজেলা বিএনপির নির্বাচন কমিটির সদস্য সরোয়ার হোসেন ফারুকের সঙ্গে জামায়াত নেতাদের মধ্যে একই অভিযোগে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়, এতে উভয় পক্ষের ছয়জন আহত হয়। উভয় দল পাথরঘাটা থানায় মামলা করে।
বরগুনা-২ আসনের জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক শামীম হাসান বলেন, বিএনপির যাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে তারা নির্বিঘ্নে চলাফেরা ও নির্বাচনি কার্যক্রম চালাচ্ছে। অথচ পুলিশ তাদের না ধরে জামায়াত নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে। দুই দলকে ‘ব্যালেন্স’ করার নামে নিরীহ জামায়াত নেতাকর্মীদের আটক করা হচ্ছে।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ ফারুক বলেন, রাতের অভিযান ও আটকদের বেশিরভাগই সাধারণ পথচারী। এমন গণআটকের ফলে ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সন্দেহভাজন হিসেবে আটক ব্যক্তিদের দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
পাথরঘাটা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমির হোসেন বলেন, জামায়াত অথবা বিএনপির নেতা হিসেবে কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুলাহ আল মাসুদ বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এছাড়াও শুক্রবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত বিএনপি ও জামায়াতের অঙ্গসংগঠনের ১০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে যৌথবাহিনী।
গ্রেফতাররা হলেন- রায়হানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আবুল কালাম উরফে গদি কালাম (৫৫), চরদুয়ানী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ওমরসানি (৩০), এছাড়াও হৃদয় মোল্লা (১৯), ইমরান (১৮), এমদাদুল হক (৩০), মো. মুন্না (২৪), মো. নাসির চৌধুরী (৪৭), মো আব্দুর রহমান, তোহা ইব্রাহিম (২৪), মো. মোস্তফা হাং (৫৩), মো. নাসির শেখ (২৫)। শুক্র ও শনিবার মিলিয়ে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


