প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে সরকারি সফরে আফগান উপমন্ত্রী

প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে বাংলাদেশে এসেছেন আফগানিস্তানের শিল্প ও বাণিজ্য উপমন্ত্রী আহমাদুল্লাহ জাহিদ। সফরকালে তিনি দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে ঢাকা-কাবুলের মধ্যে সরাসরি পণ্যবাহী উড়োজাহাজ চলাচল এবং বাংলাদেশ থেকে আফগানিস্তানে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১৪ জানুয়ারি) পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে ঢাকা সফরে আসেন আফগান উপমন্ত্রী। সফরের অংশ হিসেবে তিনি বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান এবং ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া তিনি সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় দুই দেশের বাণিজ্য সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত একটি সেমিনারে অংশ নেন।

খসড়া সূচি অনুযায়ী, বুধবার (২১ জানুয়ারি) আফগান উপমন্ত্রী স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যালস পরিদর্শনে যাবেন। বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি পরিমাণে ওষুধ আমদানির বিষয়টি সরেজমিনে জানাই তার এই পরিদর্শনের উদ্দেশ্য।

সোমবার বাণিজ্যসচিবের সঙ্গে সচিবালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে আহমাদুল্লাহ জাহিদ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি ও শুল্কমুক্ত সুবিধার প্রসঙ্গ তোলেন। এ বিষয়ে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, আফগান উপমন্ত্রীর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সৌজন্য আলোচনা হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ থেকে আফগানিস্তানে ওষুধ আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে শুল্কমুক্ত সুবিধা ও বাণিজ্যচুক্তির বিষয়গুলো একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে করতে হয়- এ কথা তাকে জানানো হয়েছে।

ইপিবি সূত্র জানায়, তাদের আমন্ত্রণেই আফগানিস্তানের প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশ সফর করছে। ২০২১ সালের আগস্টে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর এটিই আফগানিস্তান থেকে কোনও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের প্রথম ঢাকা সফর।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশই বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি। বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি ওষুধ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে আফগানিস্তান। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ডিসেম্বরে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস পরিদর্শন করেন।

আলোচনায় আফগান উপমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে সরাসরি পণ্যবাহী উড়োজাহাজ চালুর প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, কাবুল থেকে ঢাকায় ফলমূল আনা হবে এবং ফিরতি ফ্লাইটে বাংলাদেশের ওষুধ পাঠানো হবে আফগানিস্তানে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *