জামায়াত জোট: ভাগে পাওয়া ৩০ আসনের ৬ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় বিস্মিত এনসিপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হয়ে নির্বাচন করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী এনসিপি ৩০টি আসনে প্রার্থী দেবে এবং এর মধ্যে ২৯টি আসনে তারা এককভাবে লড়বে বলে আগে থেকেই জানানো হয়। একটি আসন রাখা হয় জোটের অন্যান্য শরিকদের জন্য উন্মুক্ত। তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে দেখা গেছে, অন্তত ৬টি আসনে জোটের অন্য শরিকরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি।

বুধবার বিকেলে এনসিপির মিডিয়া উপ-কমিটির প্রধান মাহবুব আলম বলেন, “সোমবার আমাদের নির্ধারিত ৩০ আসনের মধ্যে ২৯টিতে জোটের অন্য প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করার কথা ছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, চট্টগ্রাম-৮, নরসিংদী-২, নারায়ণগঞ্জ-৪, সিরাজগঞ্জ-৬, ঢাকা-২০ ও রাজবাড়ী-২ আসনে অন্য শরিকদের প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি।”

নরসিংদী-২ আসনে এনসিপির হয়ে লড়ছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। ওই আসনে জোটের পক্ষ থেকে তার এককভাবে নির্বাচন করার কথা থাকলেও জামায়াতের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। এই ব্যাপারে জানতে চাইলে সারোয়ার তুষার বলেন, ‘জামায়াত প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন নাই। আমি জানি না এখন কী হবে, আমার কাছে কোন উত্তর নেই। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে এটার উত্তর জানতে চাইব।’

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম-৮ ও নরসিংদী-২-এ জামায়াত, নারায়ণগঞ্জ-৪, ঢাকা-২০ ও রাজবাড়ী-২-এ খেলাফত মজলিস এবং সিরাজগঞ্জ-৬-এ এবি পার্টির প্রার্থী এখনো মাঠে রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এনসিপির সিনিয়র নেতারা জোটের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন মাহবুব আলম।

এদিকে এনসিপির নিজ দলেরও দুইজন প্রার্থী সময়মতো উপস্থিত হতে না পারায় মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারেননি—এরা হলেন শরীয়তপুর-১ ও শেরপুর-১ আসনের প্রার্থীরা। এই বিষয়ে জোট শরিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা হচ্ছে।

নরসিংদী-২ আসনের এনসিপি প্রার্থী সারোয়ার তুষার বলেন, “জামায়াত প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। আমি জানি না এখন কী হবে, উত্তরও আমার কাছে নেই। কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছেই উত্তর জানতে হবে।”

রাজবাড়ী-২ আসনের এনসিপি প্রার্থী জামিল হিজাযী বলেন, “খেলাফত মজলিসের প্রার্থী প্রত্যাহার না করলেও জোটের অন্য দলগুলো আমার সঙ্গে রয়েছে। আশা করছি কোনো সমস্যা হবে না।”

এনসিপির চূড়ান্ত ৩০ প্রার্থী:

ঢাকা বিভাগ
1. ঢাকা-8: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
2. ঢাকা-9: জাবেদ রাসিন
3. ঢাকা-11: নাহিদ ইসলাম (দলীয় আহ্বায়ক)
4. ঢাকা-18: আরিফুল ইসলাম আদীব
5. ঢাকা-19: দিলশানা পারুল
6. ঢাকা-20: নাবিলা তাসনিদ
7. নরসিংদী-2: সারোয়ার তুষার
8. নারায়ণগঞ্জ-4: আবদুল্লাহ আল আমিন
9. টাঙ্গাইল-3: সাইফুল্লাহ হায়দার
10. গাজীপুর-2: আলী নাছের খান
11. রাজবাড়ী-2: জামিল হিজাযী
12. মুন্সিগঞ্জ-2: মাজেদুল ইসলাম

চট্টগ্রাম বিভাগ
13. চট্টগ্রাম-8: জোবাইরুল হাসান আরিফ
14. ব্রাহ্মণবাড়িয়া-2: আশরাফ মাহদী
15. ব্রাহ্মণবাড়িয়া-3: মোহাম্মদ আতাউল্লাহ
16. নোয়াখালী-2: সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া
17. নোয়াখালী-6: আবদুল হান্নান মাসউদ
18. লক্ষ্মীপুর-1: মাহবুব আলম

রাজশাহী বিভাগ
19. সিরাজগঞ্জ-6: এস এম সাইফ মোস্তাফিজ
20. দিনাজপুর-5: আবদুল আহাদ
21. নাটোর-3: এস এম জার্জিস কাদির

রংপুর বিভাগ
22. রংপুর-4: আখতার হোসেন (দলীয় সদস্যসচিব)
23. কুড়িগ্রাম-2: আতিক মুজাহিদ

ময়মনসিংহ বিভাগ
24. ময়মনসিংহ-11: জাহিদুল ইসলাম
25. নেত্রকোণা-2: ফাহিম পাঠান

বরিশাল বিভাগ
26. পিরোজপুর-3: শামীম হামিদী

সিলেট বিভাগ
27. মৌলভীবাজার-4: প্রীতম দাশ

চট্টগ্রাম বিভাগের পার্বত্য এলাকা
28. বান্দরবান: এস এম সুজা উদ্দিন

অন্যান্য (প্রত্যাহার না হওয়া)
29. শরীয়তপুর-1: (নাম প্রকাশ হয়নি)
30. শেরপুর-1: (নাম প্রকাশ হয়নি)

এই পরিস্থিতিতে জামায়াত জোটের অভ্যন্তরে সমন্বয়হীনতা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ঘাটতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এনসিপির মতো ছোট দলগুলোর জন্য এই ধরনের সংকট মাঠপর্যায়ে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *