আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party – BNP)। এই প্রক্রিয়ায় শরিকদের অন্যতম জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (Jamiat Ulema-e-Islam Bangladesh)-কে চারটি আসনে ছাড় দিলেও তিনটিতে এখনো মাঠে রয়ে গেছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) পর্যন্ত তারা কেউই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।
সিলেট-৫: কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করেই মাঠে মামুনুর রশিদ
সিলেট-৫ আসনটি ছাড় দেওয়া হয়েছে জমিয়তের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে। কিন্তু এ আসনে বিএনপির জেলা শাখার সাবেক সহসভাপতি মামুনুর রশিদ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। তার বিরুদ্ধে দলের সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ফলে মাওলানা ফারুককে একজন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: সমর্থনের বাইরে রুমিন ফারহানা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনে বিএনপি সমর্থন দিয়েছে জমিয়তের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবীবকে। তবে এখানেও বিদ্রোহী হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিকবিষয়ক সহসম্পাদক রুমিন ফারহানা (Rumeen Farhana)। তাকেও বহিষ্কার করা হয়েছে, কিন্তু প্রার্থীতা থেকে সরে দাঁড়াননি তিনি। এ কারণে জমিয়তের অবস্থান কিছুটা চাপের মধ্যে পড়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৪: এক আসনে তিন প্রার্থী
নারায়ণগঞ্জ-৪ (Narayanganj-4) আসনটি দেওয়া হয়েছে জমিয়তের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মনির হোসেন কাসেমিকে। কিন্তু এখানে বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ শাহ আলম ও মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। দুইজনই দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে দাঁড়ানোয় তাদেরও বহিষ্কার করেছে বিএনপি।
জমিয়তের দাবি: ‘বিচলিত নয়’
বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চললেও জমিয়ত নেতারা এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নন বলে দাবি করছেন। জমিয়ত সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক কালবেলাকে বলেন, “দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যারা গেছেন, বিএনপি তাদের বহিষ্কার করেছে। আমাদের যে আসনগুলোতে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন, তারা কোনো সমস্যা সৃষ্টি করবে না ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন, “আমার আসনে আমি নিজে গিয়েছিলাম, ভালো প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। বিএনপি তার (বিদ্রোহী প্রার্থী) থেকে মন তুলে নিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনেও আমরা আত্মবিশ্বাসী।”
নীলফামারী-১: সমস্যার মীমাংসা
প্রসঙ্গত, নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে জমিয়তের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু সেখানে মাঠে ছিলেন প্রয়াত খালেদা জিয়ার বড় বোনের স্বামী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী। শেষ পর্যন্ত তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় জমিয়তের প্রার্থীতাকে কেন্দ্র করে যে জটিলতা তৈরি হচ্ছিল, তা কেটে যায়। এতে জমিয়তের স্থানীয় কর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।


