আমি নির্বাচিত হলে ভোলায় কোন চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ,দখলদার সন্ত্রাসীদের থাকতে দেয়া হবেনা। আমার মরহুম বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর কোনদিন আপনাদের সাথে অন্যায় করেনি, আমিও করবোনা কথা দিলাম। গতকাল ২৪ জানুয়ারি শনিবার (২৪ জানুয়ারী) দুপুর আড়াই টার সময় ভোলার নতুন বাজার বিজেপির কার্যালয়ের সামনে এক পথসভায় বাংলাদেশ বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার আন্দালিব রহমান পার্থ একথা বলেন।
এসময়ে তিনি আরো বলেন, এইবার মহান আল্লাহ তায়ালা আমাকে একটা সুযোগ দিয়েছে। আমরা ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মাননীয় চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান আমাকে আপনাদের খেদমত করার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমি ভোলাকে হয়তো সিঙ্গাপুর বানাতে পারবোনা, তবে ভোলার মানুষ যাহাতে শান্তিতে বসবাস করতে পারে, এবং ভোলার মানুষের জীবন যাত্রার মান কিভাবে উন্নত করা যায় সেই ব্যাবস্থা করবো। কোন হিংসা নয়, কোন বিদ্বেশ নয়। আমারা বিএনপি -বিজেপি কাঁদে কাঁদ মিলিয়ে কাজ করবো। আমরা কারো সাথে কোন মারামারি হানাহানি করবোনা। হাতপাখা এবং দাঁড়িপাল্লা সহ অন্য যারা ভোলা সদর আসনে নির্বাচন করছেন আপনাদের সাথে আমাদের কোন বিভেদ নাই। আসুন আমরা সবাই মিলে সুন্দর একটি বাসযোগ্য ভোলা গড়ি। আগামীতে আমরা একে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে ইনশাআল্লাহ নির্বাচনী বিতরনী পার হবো। যাকে ভোলার মানুষ নির্বাচিত করবেন আমরা তাকে স্বাগত জানাবো।
আপনারা জানেন, ২০০৮ সালে আমার বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর মৃত্যুর পর আমি যখন পাল ছাড়া ঘোড়ার মত হয়ে গিয়েছিলাম তখন দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাকে পরম মমতায় কাছে টেনে নিয়ে ভোলার মানুষের পাশে দাড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছেন। সেই সময় স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করেছিল। তখন আপনারা দেখেছেন ভোলায় কারা নৈরাজ্য করেছিল, টেন্ডারবাজী, চাঁদাবাজি, জমি দখল, চর দখল সহ সন্ত্রাসের জনপদ বানিয়েছিল। আমি বিরোধী দলের এম হয়ে তখন শেখ হাসিনার চোখে চোখ রেখে প্রতিবাদ করেছিলাম, এই কাজটুকু বাংলাদেশের অন্য কোনো এমপির পক্ষে সাহস হয়নি। দরবেশ বাবা, বিদ্যুৎ চুরি, বালিশ চোর, লোটাস কামালের নানান দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলাম।শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। দেশ নতুন করে আরো একবার স্বাধীন হয়েছে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে দেশ এখন গনতন্ত্রের দিকে হাঁটছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী দেশে ত্রোয়দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমি এই নির্বাচনে আপনাদের একজন প্রার্থী। ইনশাআল্লাহ আমাকে যদি ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন তাহলে ভোলাকে এই ধরনের নৈরাজ্য থেকে মুক্ত করবো ইনশাআল্লাহ।
আমরা কারো সাথে কোন অন্যায় করতে চাইনা,কোন প্রতিশোধ নিতে চাইনা।আমরা সবাইকে সাথে নিয়ে একটি আধুনিক সুন্দর ভোলা গড়ে তুলবো, আসুন আমরা এই অঙ্গীকার করি।
কোন মানুষের মনে রাগ ক্ষোভ নিয়ে শান্তিতে থাকা যায়না। আমার পুর্বে এই ভোলায় বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর চাচাকে নমিনেশন দিয়েছিল। চাচা ১৭ বছর ভোলায় বিএনপির জন্য অনেক কাজ করেছিলেন। বিএনপির অনেক নেতা কর্মীর অনেক ত্যাগ আছে, অনেক রক্ত ঝরেছে, জীবন চলে গেছে। এখন আমাদের সবার দায়িত্ব তাদেরকে বুকে টেনে নিয়ে কাজ করা।
বিএনপি-বিজেপি ভাই ভাই ঐক্য ছাড়া বিকল্প নাই। এই ভোলায় যদি আমি এমপি হতে পারি, তাহলে গোলাম নবী আলমগীর চাচাকে আমি মুরব্বি করে মাথায় রাখবো। আমি আজকে ভোলায় আসার আগেও তার সাথে দেখা করে দোয়া নিয়ে ভোলার মাটিতে পা দিয়েছি। আসুন আমরা আজকে থেকে সকল বেধা ভেদ ভূলে গিয়ে গরুর গাড়িকে নির্বাচিত করার জন্য মানুষের কাছে যাই। দেশ নায়ক তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করি। একটা কথা মনে রাখবেন, এই ভোলায় আমার বাবা মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জুর কোনদিন অন্যায় করেনি আমিও কোনদিন অন্যায় করবোনা কথা দিলাম। আপনাদের মাথায় একটি কথা রাখতে হবে, ১২ ফেব্রুয়ারী আপনি তাকেই ভোট দিবেন যে আপনাদেন জন্য একটি মেডিকেল কলেজ ও ভোলা-বরিশাল সেতু নিয়ে আসতে পারবে,ভোলাকে সন্ত্রাস মুক্ত করতে পারবে আপনারা তাকেই ভোট দিবেন।
এর আগে ঐদিন সকাল ৮ থেকে পার্থর আগমনকে কেন্দ্র করে ভোলার খেয়াঘাট থেকে শুরু করে প্রতিটি অলিগলি, রাস্তাঘাটে পুরো শহর সহ পার্থর উকিল পাড়াস্থ বাড়ি শান্তনীড় পর্যন্ত পার্থকে একনজর দেখার জন্য জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। এর সমাপ্তি ঘটে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এই ৮ ঘন্টা মানুষ দাড়িয়ে থেকে ব্যারিষ্টার পার্থকে বরন করে নেন।


