দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতি দমন—এই দুটি ক্ষেত্রকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন বিএনপি (BNP) চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman)। রাজধানীর গুলশানে অনুষ্ঠিত ‘আমরা ভাবনা বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় তিনি বলেন, “প্রথমেই আমাদের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি নিশ্চিত করতে হবে। আর দুর্নীতিকে যেভাবেই হোক মোকাবিলা করতে হবে। যদি এই দুটি সমস্যা সমাধান করতে পারি, দেশের আরও অনেক সমস্যা সহজেই সমাধান হবে।”
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে গুলশানের বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে আয়োজিত এ আলাপচারিতায় অংশ নেন জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার ১০ জন বিজয়ী। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান (Barrister Zaima Rahman)–ও।
এ সময় বিজয়ীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সিঙ্গেল মাদার, স্বামী পরিত্যক্তা নারী, কৃষকের স্ত্রী কিংবা একজন অফিসারের স্ত্রী—সবাই এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন। সরকার পরিচালনায় এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচিকে আমরা ইউনিভার্সাল করতে চাই।”
শিক্ষা নিয়ে পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “শুধু একাডেমিক শিক্ষা নয়, খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি, আবৃত্তি, গান—এসবকেও আমরা শিক্ষার অংশ করতে চাই। খেলাধুলায়ও পাশ করতে হবে। এতে ইন্টারনেট আসক্তি কমবে এবং শিশুদের মানসিক বিকাশ হবে।”
অনলাইনে সাইবার বুলিং ও হয়রানি নিয়ে এক প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, “শিশুদের ছোটবেলা থেকেই ভালো-মন্দের পার্থক্য শেখাতে হবে। তখন তারা বড় হয়ে নিজ থেকেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে—কোনটা ন্যায় আর কোনটা অন্যায়।” জাইমা রহমান বলেন, “ডিজিটাল শিক্ষা ও লোকাল কমিউনিটি ম্যানেজমেন্ট চালু করলে অনলাইন হয়রানি কমে আসবে।”
তারেক রহমান একটি ব্যতিক্রমী চিন্তার কথা জানান—প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের একটি টিম গঠনের মাধ্যমে পশু-পাখি পালন ও অভিজ্ঞতা লেখার মতো একটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালুর ভাবনা রয়েছে তাদের পরিকল্পনায়।
ঢাকার যানজট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “ঢাকায় সবকিছু কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে জেলা সদরগুলোতে ছোট ছোট স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলা, যাতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও জব সাপোর্ট সেখানেই নিশ্চিত করা যায়।”
মনোরেল প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মেট্রোরেলের চেয়ে মনোরেল কম খরচে বাস্তবায়নযোগ্য। আমরা চাই ঢাকার সঙ্গে কানেক্টেড মনোরেল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে, যা ট্রাফিক চাপ কমাতে সহায়ক হবে।”
তিনি জানান, প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনা ব্যবস্থা থাকবে, যদি তারা সঠিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠান। এছাড়া, প্রবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সবশেষে, ফেসবুকের অফিস বাংলাদেশে আনা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের স্থানীয়ীকরণ নিয়েও দলের ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এই ১০ জন বিজয়ী যাঁরা তারেক রহমানের সঙ্গে আলাপচারিতায় অংশ নেন—তারা হলেন: তৌফিকুর রহমান, রাফায়েতুল আহমেদ রাবিত, শেখ রিফাত মাহমুদ, ফাতিমা আয়াত, মো. ইসরাফিল, শাজেদুর রহমান, শেখ মো. ইকরাতুল ইসলাম, যারিন নাজনীন, মো. রিফাত হাসান ও রমেসা আনজুম রোশমী।


