আমরা কারও পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া বাঁধাতে চাই না, তবে কেউ যদি তা বাধাতে আসে, ছেড়েও দেওয়া হবে না—এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami)-র আমির ডা. শফিকুর রহমান (Dr. Shafiqur Rahman)। মঙ্গলবার খুলনার সার্কিট হাউজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নারী কর্মীদের ওপর সম্প্রতি হওয়া হা’\মলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “জীবন দেব, মায়ের ইজ্জত দেব না। কেউ যদি সেই কা’\লো হাত আমাদের মায়েদের গায়ে তোলার চেষ্টা করেন, গালে হাত দিয়ে বসে থাকবো না। পায়ে পাড়া দিয়ে ঠোঁটের ওপর ঘু’\ষি মারবেন, আর বলবেন এবার কানটাও ছেড়ে দেন—এভাবে চলবে না। সমান ওজনেই জবাব দেওয়া হবে।”
খুলনা মহানগর ও জেলা জামায়াত আয়োজিত এই জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “একটি বন্ধু সংগঠন ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে, অথচ একইসাথে আমাদের মা-বোনদের গায়ে হাত তুলছে—এই দুইটা একসঙ্গে চলতে পারে না। আমরা বলবো, আগে নিজের মাকে সম্মান করুন।”
সম্প্রতি বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক হা’\মলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, “মাঘ মাসেই যদি মাথা গরম হয়ে যায়, চৈত্র মাসে কি করবেন? জনগণের রায়ের প্রতি আস্থা রাখুন। যারা অতীতে সেই রায়কে অসম্মান করেছে, ইতিহাস তাদের শাস্তি দিয়েছে।”
তিনি বলেন, “যারা পুরোনো ফ্যা’\সিবা’\দের এপ্রোন পরে আবার ফিরে আসতে চাইছে, তাদের জন্য যুব সমাজ রায় দিয়ে দিয়েছে। পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা বলে দিয়েছে—আমরা ইনসাফ চাই, নতুন বাংলাদেশ চাই। ঐক্য চাই, বিভাজন নয়।”
নারী নিরাপত্তা ও মর্যাদা বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “আল্লাহ যদি আমাদের সুযোগ দেন, তাহলে নতুন বাংলাদেশে একজন মা তার গৃহে, চলাচলে, কর্মক্ষেত্রে সম্মান ও নিরাপত্তা পাবেন—এ দুটি বিষয়ের নিশ্চয়তা দিতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।”
ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দলীয় এমপি-মন্ত্রীরা জনগণের সম্পদে লোভের চোখ দেবে না। তিনি বলেন, “প্রতিটি বাজেটের টাকার জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। বেগমপাড়া, সিঙ্গাপুর নয়—আমরা বাংলাদেশকে সম্মানজনক রাষ্ট্রে পরিণত করবো। অর্থনৈতিক ভিত শক্ত করব।”
বক্তব্যের শুরুতে তিনি খুলনার বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প কারখানার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, “বিগত সরকারের লু’\টপা’\ট ও ভুলনীতিতে একের পর এক শিল্প কারখানা বন্ধ হয়েছে। জামায়াত ক্ষমতায় এলে শুধু বন্ধ মিল নয়, নতুন নতুন কারখানাও স্থাপন করবো। আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা নয়, কাজ তুলে দিতে চাই। তাদের সম্মান দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো। জুলাই বিপ্লবে তাদের অবদান ছিল, এখন সেই ঋণ কিছুটা হলেও শোধ করতে চাই।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমান। বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নেতা রাশেদ প্রধান।
সমাবেশের শেষ দিকে খুলনার ছয়টি আসনের মনোনীত প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির।


