দীর্ঘ ১৯ বছর পর নিজের পৈতৃক জেলা বগুড়ায় ফিরছেন তারেক রহমান। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজশাহী ও নওগাঁয় দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পর সড়কপথে বগুড়া যাবেন তিনি এবং সেখানে রাত্রিযাপন করবেন।
পরদিন বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখবেন বি’\এন’\পি’র এই সিনিয়র নেতা। ইতোমধ্যে বগুড়ায় তার আগমনকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
বগুড়া জেলা বি’\এন’\পি’র সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা জানিয়েছেন, “২৮ জানুয়ারি রাজশাহীর জনসভা শেষে তিনি বিভিন্ন স্থানে পথসভা করে ২৯ জানুয়ারি বগুড়ায় পৌঁছাবেন। ৩০ জানুয়ারি বগুড়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রচারণায় অংশ নেবেন।”
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সরাসরি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারেক রহমান। তিনি লড়ছেন বগুড়া-৬ (সদর) ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে। এর মধ্যে বগুড়া-৬ আসনটি ঐতিহাসিকভাবে বি’\এন’\পি’র ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এবং জাতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা।
বগুড়া-৬ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ২২ হাজার ৭৯৬ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ২৩৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১০ জন।
এই আসনটি ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত চারবার দখলে রেখেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি বগুড়া-৬, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১ আসন থেকে বিজয়ী হন এবং পরবর্তীতে ফেনী-১ আসন রেখে দিলে ২০০৯ সালের উপনির্বাচনে বি’\এন’\পি প্রার্থী জমির উদ্দিন সরকার নির্বাচিত হন।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বি’\এন’\পি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বগুড়া-৬ আসনে বিপুল ভোটে জয় পান জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরুল ইসলাম ওমরকে পরাজিত করে। তবে রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে তিনি শপথ না নেওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ২৪ জুন উপনির্বাচনে বি’\এন’\পি’র গোলাম মো. সিরাজ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
উল্লেখ্য, এটি তারেক রহমানের প্রথম পূর্ণাঙ্গ উত্তরবঙ্গ সফর। সিলেট থেকে শুরু করে তিনি ইতিমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা ও হাতিয়া-র বিভিন্ন নির্বাচনী জনসভায় অংশগ্রহণ করেছেন।
তবে বগুড়ায় তার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে যে আবেগ-উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে, তা অনেকটাই আলাদা। একদিকে এটি পিতৃভূমিতে তার প্রত্যাবর্তনের স্মারক সফর, অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচনে তার সরাসরি অংশগ্রহণের প্রথম অধ্যায়—দুটোই একসঙ্গে মিলিত হচ্ছে বগুড়ার মাটিতে।


