“পুরুষই নারীর পরিচালক, এটা মেনে নিয়েই আমরা রাজনীতিতে এসেছি”—এমন মন্তব্য করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দিকা।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নারীরা জামায়াতের আমির হতে পারবে না। আমরা একটা ইসলামি দল। আসলে পুরুষই নারীদের পরিচালক, এটা মেনে নিয়েই আমরা রাজনীতিতে এসেছি।”
এই বক্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। অনেকেই একে স্পষ্ট লে’\ঙ্গি’\ক বৈষম্য ও নারীবিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া জামায়াতের মহিলা শাখার সেক্রেটারি আরও বলেন, “শীর্ষ পদে নারীরা আছে কিনা সেটা মুখ্য নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ হলো নারীর অধিকার আদায় হচ্ছে কিনা।” তিনি দাবি করেন, “গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশে দুইজন নারী প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় ছিলেন, কিন্তু নারীদের সমস্যার তেমন পরিবর্তন হয়নি।”
দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবার জামায়াতে ইসলামী মহিলা শাখার চার শীর্ষস্থানীয় নেত্রী নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। তারা হলেন—মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দিকা, সহকারী সেক্রেটারি সাঈদা রুম্মান ও মারজিয়া বেগম এবং কর্মপরিষদ সদস্য ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট।
ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন-এর কাছে নানা অভিযোগ উপস্থাপন করেন। উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ওলিউল্লাহ নোমান।
জামায়াতের এই অবস্থান নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষত যখন দেশের নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন, তখন এমন বক্তব্যকে অনেকেই নারীদের প্রতি অবমাননাকর এবং পশ্চাৎপদ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।


