ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় কেঁদে ফেললেন মির্জা ফখরুল, তরুণীর মাটির ব্যাংক-ডিম উপহার

উপচে পড়া ভিড়ের মাঝখানে মঞ্চে দাঁড়িয়ে ধানের শীষে ভোট চাইছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir)। হঠাৎ জনতার ভিড় ঠেলে এগিয়ে এলেন এক তরুণী। হাতে একটি মাটির ব্যাংক ও থলে ভর্তি ডিম। তরুণীর নাম আনিছা আক্তার। বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কাজীপাড়া এলাকায়।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কাজীপাড়ায় গণসংযোগকালে আনিছা বললেন, “স্যার, বাড়ির পোষা মুরগির কিছু ডিম আর সঞ্চিত কিছু পয়সা এনেছি আপনার নির্বাচনের জন্য। সামান্য এই উপহারটা গ্রহণ করবেন।”

এই হৃদয় ছোঁয়া মুহূর্তে আবেগে ভেঙে পড়েন বিএনপি মহাসচিব। মাটির ব্যাংক হাতে নিয়ে বলেন, “এই মেয়েটি তাঁর সঞ্চিত অর্থ আমাকে নির্বাচন খরচের জন্য দিয়েছে। ডিমও দিয়েছে।” এরপর তাঁর গলা ধরে আসে। চোখে জল এসে পড়ে। নিজেকে সামলে নিয়ে বলেন, “আল্লাহ এই মেয়েটার আকুতিকে কবুল করুন।”

মঞ্চে তাঁর পাশে ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আল মামুন আলম। তিনি বলেন, “এটি এই এলাকার মানুষের একটি ঐতিহ্যবাহী রীতি। যোগ্য প্রার্থীকে মানুষ তাঁদের ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে উপহার দেয়—মাটির ব্যাংক, টাকার মালা, এমনকি বাড়ির ডিম, মুরগি বা ছাগলও।”

এর আগের দিন আকচা ও চিলারং এলাকায়ও এমন দৃশ্য দেখা গেছে। আকচায় এক শিশু তাঁর হাতে ৫০০ টাকা তুলে দিলে মির্জা ফখরুল দাঁড়িয়ে শিশুটিকে অভিনন্দন জানান। বলেন, “এই টাকা আমি খরচ করব না। আজকের তারিখ লিখে রেখে দেব।”

পরে দেবীগঞ্জ বাজারে নির্বাচনী সভায় আরও কিছু অর্থ উপহার পান তিনি। এরপর চিলারং ইউনিয়নের মানু বাবুর মন্দির চত্বরে অনুষ্ঠিত গণসংযোগে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা টাকার মালা ও মাটির ব্যাংক উপহার দেন।

চিলারং ইউনিয়নের মাধবপুর এলাকায় ওবায়দুল্লাহ মাসুদের বক্তব্য চলাকালে একদল নারী উলুধ্বনি দিতে দিতে মঞ্চে এসে মির্জা ফখরুলের গলায় টাকার মালা পরিয়ে দেন। তিনি দুই হাত তুলে তাঁদের অভিবাদন জানান।

এরপর এক নারী বাড়ির পোষা হাঁসের ডিম এনে তাঁর হাতে তুলে দেন এবং স্নেহের সঙ্গে মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। সন্ধ্যায় আখানগর উচ্চবিদ্যালয়ে নির্বাচনী সভায় আরেক নারী দেন টাকাভর্তি একটি মাটির ব্যাংক।

জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ বিএনপির মহাসচিবকে নিজের প্রতিনিধি মনে করেন। তাই ভালোবাসা থেকেই তাঁরা এমন উপহার দিয়ে সহযোগিতা করছেন।

সবশেষে মির্জা ফখরুল বলেন, “এই এলাকার মানুষের ভালোবাসা আমাকে টেনে আনে। আমি কখনো হারি, কখনো জিতি, কিন্তু এ সম্পর্ক কখনো ভাঙে না। এই ভালোবাসা কি ভোলা যায়?”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *