সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীরের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের মনোনীত প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বালিকা বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এই দাবি করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত আমীরের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিল ডাকার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, এই হ্যাকিংয়ের পেছনে একটি নির্দিষ্ট মহলের পরিকল্পিত সম্পৃক্ততা রয়েছে।’
তিনি বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য কাউকে ‘রাজাকার’ বা ‘জঙ্গি’ আখ্যা দেওয়ার সংস্কৃতি এখন আর জনগণ গ্রহণ করছে না। দেশের মানুষ এখন রাজনৈতিক দ্বিচারিতা সম্পর্কে সচেতন।
বক্তব্যে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালানো নারী কর্মীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে নারী কর্মীদের বোরখা ও হিজাব টেনে খুলে নেওয়া হচ্ছে। প্রচারণার সময় নারীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য তিনি সরাসরি বিএনপিকে দায়ী করেন।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এ ধরনের নোংরা ও সহিংস রাজনীতি দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি অত্যন্ত ভয়ংকর বার্তা দিচ্ছে।
শেরপুরে জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সহিংসতার পুরোনো রূপ আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড এবং হামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।
সমাপনী বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার হিন্দু-মুসলিম বিভেদ সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে, এমন প্রচারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জনগণ এবার পুরোনো বিতর্কে কান দেবে না, তারা বাস্তব পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবে।
ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোক্তার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় স্থানীয় জামায়াত, ছাত্রশিবির ও খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা সেক্রেটারি আব্দুর রশীদ বিশ্বাস।


