“এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোট করার পর তাদের কৌশলগত দুর্বলতা পরিষ্কার হয়ে যায়”: মাহফুজ আলম

নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য উইক-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এনসিপি যে জোটে যোগ দিয়েছে, তার নেতৃত্বে জামায়াত থাকায় ভবিষ্যতে সেই জোটে জামায়াতের আধিপত্যই প্রতিষ্ঠিত হবে।

সাক্ষাৎকারে মাহফুজ আলম বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে নতুন শক্তির বৃহত্তর জোটের অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোট করার পর তাদের কৌশলগত দুর্বলতা পরিষ্কার হয়ে যায়।” তিনি মনে করেন, জামায়াত যেকোনো জোটে একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

সাবেক উপদেষ্টা হিসেবে পদত্যাগের পর কেন কোনো রাজনৈতিক দলে যুক্ত হননি, এমন প্রশ্নে মাহফুজ আলম বলেন, “বিএনপির সঙ্গেও তখন কিছুটা যোগাযোগ হয়েছিল, কিন্তু তারা আগেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে গিয়েছিল।”

রাজনৈতিক দলগুলোর সংকীর্ণ অবস্থান নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন। “একবার একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে পৌঁছালে পরিবর্তনের মনোভাব বন্ধ হয়ে যায়। বিএনপি, জামায়াত বা আওয়ামী লীগ—তিন দলই একটি পরিচিত রাজনৈতিক চক্রে আটকে আছে,”—বলেন মাহফুজ।

তিনি যোগ করেন, “পুরনো রাজনৈতিক সমঝোতার বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়ার কারণে বাস্তবিক কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। এসব দল শুধু ক্ষমতার রাজনীতি করে, জনমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ক্ষীণ।”

উপদেষ্টা থাকার সময় দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানান মাহফুজ আলম। “বিশেষ করে সংখ্যালঘু নেতাদের আশ্বস্ত করতে হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনিক বাস্তবতায় তা সফল হয়নি,”—বললেন তিনি।

স্বাধীনতা যুদ্ধ ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের বিষয়ে তিনি বলেন, “১৯৭১ আমাদের প্রজাতন্ত্রের ভিত্তি। শেখ মুজিবুর রহমান (Sheikh Mujibur Rahman) একজন জাতীয় বীর, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধকে কেবল আওয়ামী লীগের পারিবারিক আখ্যান বানিয়ে ফেলা ইতিহাসের অবমাননা।” তিনি মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনগণের সংগ্রাম, কোনো একক দলের নয়।

ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কাঠামো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ছয় দফা আন্দোলন এখনও প্রাসঙ্গিক। যে কোনো ভবিষ্যৎ সরকার চাইলে সংবিধানিক কাঠামো পরিবর্তন করতেই পারে, তবে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।”

জামায়াত ও বিএনপির দুর্বলতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করে মাহফুজ আলম বলেন, “এনসিপির বাইরে আরও প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য দল নয়, পরিবর্তন। রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সংবিধানিক সংস্কারের লক্ষ্যে চাপ অব্যাহত থাকবে। এই সংগ্রাম একদিনের নয়—এটা আজীবনের লড়াই।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *