ঢাকা বিভাগে: বিএনপি জোটের একক আধিপত্য, তবে নগরাঞ্চলে সতর্কবার্তা

প্রতিনিধিদের পাঠানো মাঠপর্যায়ের জরিপ, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়, প্রার্থীভিত্তিক জনপ্রিয়তা ও পরিচিতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত, অতীত নির্বাচনের ফলাফল ও ভোটের ট্রেন্ড, পাশাপাশি স্থানীয় বাস্তবতা—সবকিছু সমন্বয় করে তাজাখবরের এআই মডেল ঢাকা বিভাগের ৭০টি সংসদীয় আসনের নির্বাচন প্রজেকশন তৈরি করেছে। এই বিশ্লেষণে দলীয় শক্তি, জোট রাজনীতি, বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রভাব, স্থানীয় ভোট ব্যাংক , সংখ্যালঘু ভোটের অনুপাত এবং নগর ও গ্রামীণ ভোটের পার্থক্যকে আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই প্রজেকশন অনুযায়ী ঢাকা বিভাগে বিএনপি জোট সুস্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে। মোট ৭০টি আসনের মধ্যে অন্তত ৪৫ টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে দলটির মনোনীত প্রার্থীরা। এছাড়া আর অন্তত ৪ টি আসনে বিএনপি জোট প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী। এছাড়া ২ টি আসনে অনেকটাই এগিয়ে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী। এদিকে ঢাকা বিভাগের অন্তত ৩ টি আসনে অনেকটাই এগিয়ে জামাত জোটের প্রার্থীরা। এছাড়া ২ টি আসনে এগিয়ে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। বাকি আসনগুলির কোনোটিতে বিএনপি’র সাথে জামায়াতের দ্বিমুখী আবার কোনো কোনোটিতে বিএনপি জোট-বিএনপি বিদ্রোহী-জামায়াত প্রার্থীদের ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাজাখবরের এআই বিশ্লেষণে আসন ভিত্তিক নির্বাচনী ফলাফলের পূর্বাভাস এবং নির্বাচনের লাইভ ফলাফলের জন্য ভিজিট করুন – তাজাখবর নির্বাচন (TazaKhobor)

এইসব দ্বিমুখী আর ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিবেচনায় নিয়ে ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৫৮টি আসনে বিএনপি জোটের জয় সম্ভাব্য বলে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াত জোট সম্ভাব্যভাবে ৬টি আসনে শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং বিএনপির বিদ্রোহী বা শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আরও ৬টি আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারে। অর্থাৎ, সংখ্যার বিচারে বিএনপি জোটের আধিপত্য থাকলেও প্রায় এক-চতুর্থাংশ আসনে ফল এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলা—গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ এবং মানিকগঞ্জে—বিএনপির দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কাঠামো এই লিডের প্রধান ভিত্তি। মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি, ধারাবাহিক গণসংযোগ এবং ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বিএনপির পক্ষে জনমত গড়ে তুলছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত ভোটারদের মধ্যে অর্থনৈতিক চাপ ও প্রশাসনিক অসন্তোষ এই ঝোঁককে আরও দৃঢ় করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

তবে ঢাকা মহানগরের কয়েকটি আসনে সমীকরণ তুলনামূলকভাবে জটিল। নগরাঞ্চলের কিছু এলাকায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে জন্ম নেওয়া বিদ্রোহী প্রার্থী, পাশাপাশি ধর্মভিত্তিক সংগঠনের সুসংগঠিত ভোটব্যাংক ফলাফলকে অনিশ্চিত করে তুলছে। এসব আসনে ভোটের ব্যবধান খুব কম হতে পারে এবং শেষ মুহূর্তে ভোটার উপস্থিতি, প্রচারণার তীব্রতা ও প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাই চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, ঢাকা বিভাগে বিএনপি জোট সংখ্যাগতভাবে স্বস্তিদায়ক অবস্থানে থাকলেও নগরভিত্তিক কিছু আসনে ‘সতর্ক লিড’ নিয়েই এগোতে হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনগুলোই শেষ পর্যন্ত ঢাকা বিভাগের চূড়ান্ত রাজনৈতিক বার্তা নির্ধারণ করতে পারে এবং জাতীয় রাজনীতির বড় সমীকরণেও এর প্রতিফলন ঘটতে পারে।

তাজাখবরের এআই বিশ্লেষণে আসন ভিত্তিক নির্বাচনী ফলাফলের পূর্বাভাস এবং নির্বাচনের লাইভ ফলাফলের জন্য ভিজিট করুন – তাজাখবর নির্বাচন (TazaKhobor)

নির্বাচনের লাইভ ফলাফল ও আসনভিত্তিক প্রজেকশনের জন্য দেখতে থাকুন: তাজাখবর নির্বাচন এরিয়া পোর্টাল

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *