বিএনপি নেতৃত্বাধীন চলমান জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির এবারের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে একটি বড় ফ্যাক্টর হতে পারতেন, কিন্তু দল সেই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগায়নি বা কাজে লাগাতে চায়নি।
তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, বিএনপি আরও জোরালোভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে সামনে আনতে পারতো। তাঁর জীবন, সংগ্রাম এবং প্রয়াণের পেছনে যে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে, তা জনগণের গভীর সহানুভূতি সৃষ্টি করতে পারতো।” বিশ্লেষকের মতে, শেখ হাসিনার সরকার তাকে জেলে নিয়ে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করে, ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে—এমন ধারণা জনগণের মাঝে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে।
ডা. জাহেদ বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া যে অবস্থায় দেশ ত্যাগ না করে জেল জুলুম সহ্য করেছেন, তা একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য অনন্য উদাহরণ। তার জানাজায় জনগণের ঢল ছিল এই ভালোবাসার প্রমাণ।” তিনি মনে করেন, বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ এবং সংগ্রামের এই বর্ণনা আরও জোর দিয়ে তুলে ধরা উচিত ছিল।
তারেক রহমানের শেষ ভাষণ প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ বলেন, “সেই ভাষণ ছিল দুর্দান্ত। কনটেন্ট, প্রেজেন্টেশন সব দিক থেকে এটি বিএনপির অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের জনগণের সামনে তুলে ধরার মতো।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, নেতাকর্মীরা এই ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো, বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়া ও শহীদ জিয়াউর রহমানকে ঘিরে যেসব বক্তব্য ছিল, তা ভোটারদের সামনে তুলে ধরবেন।
তারেক রহমানের ভাষণে উঠে এসেছে বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ। ভাষণে তিনি বলেন:
“স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান দেশের স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং এই কারণেই তাকে শা’\হা’\দা’\ত বরণ করতে হয়েছে। আমার মা, মনুমা বেগম খালেদা জিয়া, জীবনের শেষ প্রান্তেও গণতন্ত্রের আপসহীন সংগ্রামে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। বিদেশ যাওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ না করে তিনি দেশেই থেকেছেন, জেল-জুলুম সহ্য করেছেন, কিন্তু আপোষ করেননি।”
তিনি আরও বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হলো জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন। শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার যে যাত্রা, সেই সাফল্য এগিয়ে নিতে হবে। ধানের শীষের বিজয় মানে বাংলাদেশকে মুক্ত করা।”
তারেক রহমান ভাষণে জাতিকে আহ্বান জানান—ছাত্র, জনতা, কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক, হকার, শিক্ষক, সাংবাদিক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, নারী-পুরুষ সকলের কাছে তিনি অনুরোধ জানান, যেন তারা শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ধানের শীষকে বিজয়ী করেন।
ডা. জাহেদ তাঁর বিশ্লেষণে বলেন, “বিএনপির দুটি বড় পলিটিক্যাল অ্যাসেট হলেন শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া। আওয়ামী লীগ যেখানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এক ধরনের লা’\ই’\বি’\লি’\টি সৃষ্টি করেছে, সেখানে বিএনপি এই দুই নেতার প্রতি জনগণের গভীর আবেগকে মূল শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারতো।”
তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের শেষ অধ্যায়টি রাজনৈতিকভাবে এতটাই তাৎপর্যপূর্ণ যে, সেটি জনগণের মধ্যে গভীর প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে এবং এখনও সেই সহানুভূতির ঢেউ বিএনপির পক্ষে কাজ করতে পারে।”
শেষে তিনি আহ্বান জানান, বিএনপির নেতাকর্মীরা যেন তারেক রহমানের বক্তব্যের প্রাসঙ্গিক অংশগুলো জনগণের সামনে বারবার তুলে ধরেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগকে কেন্দ্র করে একটি সহানুভূতিমূলক আবহ তৈরি করেন।


