সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে এক ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী হলো একটি ভোটকেন্দ্র। ভোট দিতে এসে কেন্দ্রের ভেতরেই কন্যাসন্তান প্রসব করেন এক নারী ভোটার। সেই নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে ‘খালেদা’। সদ্যোজাত এই কন্যার নাম নির্ধারণ করেছেন তার বাবা শরীফুল ইসলাম ও মা আম্বিয়া খাতুন।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম প্রসূতি মা আম্বিয়া খাতুন ও নবজাতক শিশুকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তিনি আম্বিয়ার হাতে একটি বাঁধাই করা জন্মসনদ তুলে দেন। সেই জন্মসনদেই শিশুটির নাম উল্লেখ করা হয়েছে ‘খালেদা’। পাশাপাশি নবজাতকের প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও নগদ অর্থও তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে।
ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে। পারিবারিক প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে সন্তানসম্ভবা আম্বিয়া খাতুন রায়গঞ্জ উপজেলার বেঙনাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে যান। নির্ধারিত লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তিনি। কিন্তু ভোট প্রদান শেষে হঠাৎ করেই তীব্র প্রসববেদনা অনুভব করতে থাকেন।
পরিস্থিতি বুঝে উপস্থিত নারী ভোটাররা দ্রুত তাকে কেন্দ্রের একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানেই তিনি এক ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। মুহূর্তেই ভোটকেন্দ্রের পরিবেশে তৈরি হয় ভিন্ন আবহ—ভোটের আনুষ্ঠানিকতার ভেতর এক নতুন জীবনের আগমন।
ভোটকেন্দ্রে জন্ম নেওয়া সেই শিশুর নাম রাখা হয়েছে ‘খালেদা’—এ খবর দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নজরে আসে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদের। পরে তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন নবজাতক ও তার মায়ের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।
এরপর জেলা প্রশাসক নিজেই কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রসূতি মা ও শিশুর খোঁজখবর নেন। শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তাও প্রদান করেন। ভোটের দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে গেল এক নতুন জীবনের গল্প—যা এখন রায়গঞ্জ ছাড়িয়ে অনেকের আলোচনার বিষয়।


