মন্ত্রণালয় ছাড়ার আগেই উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলমকে বিদায় জানালেন গানম্যান ও চালক

সদ্য দায়িত্ব ছাড়তে যাওয়া স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (Mohammad Jahangir Alam Chowdhury)-এর ব্যক্তিগত গানম্যান ও গাড়িচালক শেষ কর্মদিবসের আগেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। মন্ত্রণালয় ছাড়ার আগেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা নিজেই তুলে ধরলেন বিদায়ী এই উপদেষ্টা।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of Home Affairs, Bangladesh)-এ আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বিষয়টি প্রকাশ করেন।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, তাঁর গানম্যান আগের দিনই স্পষ্ট করে দেন যে, নতুন সরকারের কোনো মন্ত্রীর সঙ্গে দায়িত্ব নিতে হলে আগে থেকেই অব্যাহতি প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার গানম্যান গতকাল (সোমবার) বলছিল– ‘স্যার, আপনি যদি আজ আমাকে ছেড়ে দেন, তাহলে আমি অন্য কোনো মন্ত্রীর গানম্যান হতে পারব।’ আমি বললাম, তুমি বিসমিল্লাহ বলে চলে যাও। আমার কোনো গানম্যান দরকার নেই।”

একইভাবে তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালকও একই অনুরোধ জানান। উপদেষ্টা বলেন, “যে আমার গাড়িটা চালাত, সে এসে বলল, ‘স্যার, আমাকে যদি আজকে না ছাড়েন, তাহলে অন্য মন্ত্রীর গাড়ি আমি পাব না।’ আমি বললাম, ঠিক আছে, তুমিও চলে যাও। আমি একটা জিপ নিয়ে চলে যাবো।”

দায়িত্বের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতার মুখোমুখি হলেও তাঁর কণ্ঠে ছিল স্বাভাবিকতা। বরং বিষয়টিকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সহজভাবেই নিয়েছেন বলে জানান।

দায়িত্ব শেষে তিনি দেশেই থাকবেন বলেও স্পষ্ট করেন। আপাতত বিদেশে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই তাঁর। ব্যক্তিগত জীবনে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতির কথাও শোনালেন তিনি।

বিদায়ী বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর নির্বাচন হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (Bangladesh Election Commission)-এর পর সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব পালন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়—এমন মন্তব্য করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, তিনি জীবনের ‘চতুর্থ কোয়ার্টার’ পার করছেন। বাকি সময়টা পরিবারকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কাটাতে চান। এ জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

পরে এক ব্রিফিংয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ। দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক সাংবাদিকতার মাধ্যমেই গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে—এমন প্রত্যাশার কথাও ব্যক্ত করেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *