শপথ নেওয়ার মাত্র একদিন পরই অতি সাধারণ প্রোটোকলে অফিস কার্যক্রম শুরু করলেন নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ও তারেক রহমান (Tarique Rahman)। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিনি মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে যান। সেখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahman) এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া (Khaleda Zia)-এর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত করেন।
দুপুরের এ সফরে ছিল না কোনো বিশেষ আড়ম্বর, ছিল না রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে কোনো ধরনের অবরোধ বা জনদুর্ভোগ। প্রধানমন্ত্রীর বহর চলাচলের সময়ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতে দেখা যায়নি অতিরিক্ত চাপ বা ভোগান্তি। শপথ-পরবর্তী প্রথম দিনেই এমন দৃশ্য রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি করেছে ভিন্ন এক বার্তা।
মাজার জিয়ারত শেষে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে গিয়ে নিয়মিত অফিস কার্যক্রম শুরু করেন। পুরো প্রক্রিয়ায় কোথাও বাড়তি আনুষ্ঠানিকতা বা জনজীবনে বিঘ্ন ঘটেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party)-এর মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান (Shayrul Kabir Khan) বলেন, “এটা অবশ্যই একটি ইতিবাচক দিক। শপথের পরদিনই তিনি প্রমাণ করে দিলেন, তিনি জনগণের নেতা—শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি।”
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখভাল করবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। তবে জনগণের কষ্ট বা ভোগান্তি হোক—এমন কিছু প্রধানমন্ত্রী কখনো চান না। জনগণের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত না করেই দায়িত্ব পালনের যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, সেটিই তার রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন।
শায়রুল কবির খানের ভাষ্য অনুযায়ী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারতের সময়ও প্রধানমন্ত্রী একইভাবে সাধারণ প্রোটোকলে উপস্থিত হয়েছিলেন। তার এই পদক্ষেপকে দলীয় মহল দেখছে একধরনের প্রতীকী অবস্থান হিসেবে—ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকেও সাধারণ মানুষের কাতারেই থাকার ঘোষণা।
শপথের পরদিনই এমন স্বাভাবিক কর্মদিবস অনেকের কাছেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের সূচনালগ্নে এই বার্তাটি ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক আচরণের একটি ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা যেতে পারে।


