৪৪তম বিসিএসের নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনের নিয়োগ চূড়ান্ত, পিএসসির বিজ্ঞপ্তিতে ৯ শর্ত স্পষ্ট

৪৪তম বিসিএসের নন-ক্যাডার পদে মোট ৪ হাজার ১৩৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (Bangladesh Public Service Commission)। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রকাশিত এই তালিকায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদফতরের ৯ম থেকে ১১তম গ্রেডের কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

কমিশনের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত ৯টি শর্ত সাপেক্ষে এ নিয়োগ কার্যকর হবে। প্রতিটি শর্তেই প্রার্থীদের জন্য স্পষ্ট বার্তা রয়েছে—মনোনয়ন সাময়িক, যাচাই-বাছাই শেষে তবেই চূড়ান্ত নিয়োগ।

প্রথম শর্তে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রার্থীদের আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত সনদ, তথ্য ও অন্যান্য ডকুমেন্ট ৪৪তম বিসিএস পরীক্ষা-২০২১ এর বিজ্ঞপ্তির ৮ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং আবেদনপত্রে দেওয়া অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে কমিশন সাময়িকভাবে মনোনয়ন দিয়েছে। তবে নিয়োগের আগে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ যথাযথ প্রক্রিয়ায় সব সনদ ও কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করে নিশ্চিত হয়ে তবেই চূড়ান্ত নিয়োগ দেবে।

দ্বিতীয় শর্তে কড়াকড়ি সতর্কবার্তা রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী যদি জ্ঞাতসারে ভুল বা মিথ্যা তথ্য দেন, প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন করেন, টেম্পারিং করেন, জাল সনদ দাখিল করেন কিংবা বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে কারচুপি করেন—তাহলে তার মনোনয়ন বাতিল হবে। গুরুতর অসম্পূর্ণতা ধরা পড়লেও একই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে। এমনকি বিষয়টি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ফৌজদারি আইনে সোপর্দ করার কথাও বলা হয়েছে। চাকরিতে যোগদানের পর এ ধরনের তথ্য প্রকাশিত ও প্রমাণিত হলে বরখাস্তসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, যেসব প্রার্থী প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও পছন্দক্রমে আবেদন করেছেন এবং সুপারিশকৃত পদের সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতার সামঞ্জস্য নেই—তাদের মনোনয়নও বাতিল করা হবে।

তৃতীয় শর্ত অনুযায়ী, নন-ক্যাডার পদে মনোনয়নপ্রাপ্তদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ সম্পন্ন করবে।

চতুর্থ শর্তে বলা হয়েছে, ‘নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা, ২০২৩’ এবং সরকারের সর্বশেষ কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রাপ্ত অধিযাচন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ৯ম থেকে ১১তম গ্রেডে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

পঞ্চম শর্তে পুনরায় জোর দিয়ে বলা হয়েছে, আবেদনপত্রে প্রদত্ত তথ্য, সনদ ও অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে কমিশন মনোনয়ন দিয়েছে। তবে নিয়োগের আগে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও অন্যান্য ডকুমেন্টের সত্যতা যাচাই করতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রার্থীর উচ্চতা, বুকের মাপ, ওজন সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রাক-নিয়োগ জীবনবৃত্তান্তও যথাযথ সংস্থার মাধ্যমে যাচাইয়ের পর নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

ষষ্ঠ শর্তে উল্লেখ আছে, প্রকাশিত মনোনয়নে কোনো ভুল-ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তা সংশোধনের ক্ষমতা কমিশন সংরক্ষণ করে।

সপ্তম শর্ত স্পষ্ট করে দিয়েছে—এই মনোনয়ন নন-ক্যাডার পদে চাকরি পাওয়ার নিশ্চয়তা বা আইনি অধিকার সৃষ্টি করে না।

অষ্টম শর্ত অনুযায়ী, কমিশন থেকে মনোনয়ন পাওয়ার পর নিয়োগসংক্রান্ত সব বিধি-বিধান ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত নিয়োগ দিতে পারবে।

নবম ও শেষ শর্তে জানানো হয়েছে, ফলাফল কমিশনের www.bpsc.gov.bd এবং টেলিটকের bpsc.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রকাশিত এই তালিকা সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিলেও, চূড়ান্ত নিয়োগের আগে বহুমাত্রিক যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াই নির্ধারণ করবে শেষ ফলাফল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *