এনআইডি সংশোধনে বড় পরিবর্তন: আবেদন নিষ্পত্তিতে ইসির জরুরি ৩ নির্দেশনা

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। নতুন জারি করা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী, জন্ম তারিখসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনের আবেদন আর মাঠ পর্যায়ে নিষ্পত্তি হবে না। এখন থেকে এসব আবেদন সরাসরি এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়েই চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ (National Identity Registration Wing)-এর সহকারী পরিচালক মুহা. সরওয়ার হোসেন (Muha. Sarwar Hossain) স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। আদেশে বলা হয়েছে, সংশোধন সংক্রান্ত আবেদন দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এই নতুন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (13th National Parliament Election) ও গণভোট-২০২৬। নির্বাচনকে ঘিরে বিপুলসংখ্যক নাগরিক তাদের এনআইডির তথ্য সংশোধনের আবেদন জমা দেন। ফলে বিভিন্ন পর্যায়ে আবেদন জমে যায় এবং স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রমে চাপ সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং নাগরিক সেবা সচল রাখতে ইসি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পূর্বে ‘ক-১’ থেকে ‘গ’ ক্যাটাগরিতে থাকা জন্ম তারিখ সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলো এখন ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হবে। এর ফলে এসব আবেদন সরাসরি এনআইডি মহাপরিচালকের অধীনে চলে যাবে এবং মাঠ পর্যায়ের পরিবর্তে কেন্দ্রীয়ভাবে নিষ্পত্তি করা হবে। ইসির ভাষ্য অনুযায়ী, এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে গতি আসবে এবং দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্পন্ন থাকা আবেদনগুলো দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে।

জরুরি তিন নির্দেশনা

  1. জন্ম তারিখ সংক্রান্ত যেসব আবেদন আগে ‘ক-১’ থেকে ‘গ’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল, সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাতে হবে।

  2. প্রাপ্ত তালিকার ভিত্তিতে অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলোর ক্যাটাগরি পরিবর্তন করে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করবেন।

  3. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সংশোধন কার্যক্রম সীমিত থাকায় বর্তমানে জমে থাকা অনিষ্পন্ন আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ইসি জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো নাগরিকদের ভোগান্তি কমানো এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জমে থাকা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে এনআইডি সেবাকে স্বাভাবিক গতিতে ফিরিয়ে আনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *