পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই সক্রিয় হয়ে ওঠে চাঁদাবাজ চক্র। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ফুটপাত, বিপণিবিতান ও শপিং মলকেন্দ্রিক শত শত কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সেলামির নামে এলাকায় এলাকায় সংগঠিত হয় ব্যাপক চাঁদাবাজি। ফলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয় আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন রাখার প্রত্যয়ে আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ফুটপাতকে চাঁদামুক্ত রাখতে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। চাঁদাবাজি প্রতিরোধে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও প্রতিটি থানার ওসিকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই নয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
রাজধানীর কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, আগের বছরগুলোতে নানা অজুহাতে টাকা দিতে হতো। নিউমার্কেট এলাকার এক ফুটপাতের কাপড় ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া বলেন, “আগে কিছু না কিছু দিয়েছি। এখন কাউকে টাকা দিতে হয় না। কেউ আমাদের কাছে আসেও না।” নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, শুনছি নেতারা বলছেন আর চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না। যদি সত্যিই তা হয়, তাহলে ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য এটি স্বস্তির খবর।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (Dhaka Metropolitan Police) জানিয়েছে, রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর সব এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির তৎপরতা ঠেকাতে ইতোমধ্যে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। সব ধরনের চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
রাজধানীর বড় বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও শপিং মলে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে রমজান ও ঈদ উপলক্ষে ব্যবসা-বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন বেড়ে যাওয়ায় বড় অঙ্কের নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী পরিবহনে বিশেষ ‘এসকর্ট’ সেবা দেবে ডিএমপি (DMP)।
ডিএমপি জানিয়েছে, কেউ বড় অঙ্কের নগদ অর্থ বা মূল্যবান দ্রব্য স্থানান্তরের ক্ষেত্রে পুলিশের সহায়তা চাইলে এসকর্ট সেবা নিতে পারবেন। তবে সেবাপ্রত্যাশী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব যানবাহনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে ডিএমপি সতর্ক রয়েছে। নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে এবং রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সভাও করা হয়েছে। চাঁদাবাজির বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বলেন, রমজান মাসে চাঁদাবাজি ও অবৈধ আদায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে পুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাজার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবহন খাতে বিশেষ নজরদারি, সাদা পোশাকে টিম মোতায়েন এবং দ্রুত অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সচিবালয়ে এক সভায় সালাহউদ্দিন আহমদ (Salahuddin Ahmed) বলেন, পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যুগোপযোগী উন্নয়নে সঠিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। জনগণের আস্থা অর্জনে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।


