সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব (Foyez Ahmed Taiyeb) স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ বিমান (Biman Bangladesh Airlines)-এর পরিচালক হিসেবে তিনি কখনও যোগ দেননি। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।
তিনি লেখেন, তার নাম পরিচালক পদে প্রস্তাব করা হয়েছিল—এটি সত্য। তবে তিনি জয়েনিং লেটারে স্বাক্ষর করেননি, অফিসে যোগ দেননি এবং বোর্ড সভাতেও কখনও অংশ নেননি। বিষয়টি তিনি আগেই সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছিলেন বলে জানান।
ফেসবুক পোস্টে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব উল্লেখ করেন, বিষয়টি তিনি সাবেক উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ (Dr. Wahiduddin Mahmud), সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন (Sheikh Bashir Uddin) এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়কে সরাসরি জানিয়েছিলেন। তার ভাষায়, দায়িত্ব গ্রহণ না করার বিষয়টি তিনি পরিষ্কারভাবে অবহিত করেন।
তবে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব না নিলেও, বিমানের টিকিটিং ব্যবস্থায় অনিয়ম ও জালিয়াতি রোধে একটি কারিগরি মূল্যায়ন প্রতিবেদনের কাজ করেছিলেন বলে জানান তিনি। ওই প্রতিবেদনে গ্রুপ ও ব্লক বুকিং, ক্যান্সেলেশন ও বুকিং রিনিউ প্রক্রিয়া, এজেন্ট আইডি ব্যবহার ও পুনঃব্যবহার, এবং GDS/NDC>PSS>RAPD/RMS সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, লগ রেকর্ডিং, অডিট ও ডেটা অ্যানালাইটিক্সের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হয়।
তিনি জানান, কাজ করতে গিয়ে বিমানের মার্কেটিং ও আইটি টিমের মধ্যে সমন্বয়হীনতা স্পষ্টভাবে সামনে আসে। একই সঙ্গে জিডিএস ও পিএসএস সিস্টেমে লগ রেকর্ডের ঘাটতি এবং পেমেন্ট সেটেলমেন্টের সঙ্গে গ্রুপ বা ব্লক বুকিংয়ের ফারাকও চিহ্নিত হয়।
এছাড়া এমাডিউস, গ্যালিলিউ ও সাব্রে সিস্টেমে রেভিনিউ ম্যাপিং, সফটওয়্যার সাপ্লায়ারদের কাছ থেকে ডেটা শেয়ারিং, বুকিং ও পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্যের এক্সেস এবং ডেটা অ্যানালাইটিক্সের অনুপস্থিতিও প্রতিবেদনে উঠে আসে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রায়শই দেখা যায় সেলস টিমের কর্তারাই পরবর্তীতে বিমানের এমডি হন—গ্রুপ বুকিং ও ব্লকিংকে ঘিরে যে নেক্সাস রয়েছে, সে সম্পর্কেও তারা অবহিত হয়েছেন।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও লেখেন, ফেইক প্যাসেঞ্জার ইনফো ও পাসপোর্ট ডেটা ব্যবহার করে গ্রুপ ও ব্লক বুকিং করা এবং পরে সেই তথ্য পরিবর্তন করার প্রবণতাকে তারা বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ের পরামর্শ বৈঠকেও টিকিটিংয়ের কারিগরি প্রক্রিয়া, ডেটা ও লগ এক্সেস এবং ডেটা অ্যানালাইটিক্স সংক্রান্ত কিছু নীতিগত ইনপুট দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
সবশেষে তিনি বলেন, বিমানের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা তাদের কাজের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে হয়তো তার নাম প্রস্তাব করেছিলেন। এজন্য তিনি মৌখিকভাবে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেননি।


