নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগের ৬ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে উপজেলার বসুরহাট বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের ১০-১৫ জন নেতাকর্মী বসুরহাট বাজারের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হন।
তারা সংগঠিত হয়ে বসুরহাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ছয়জনকে আটক করে। এসময় বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে আটককৃতদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। তারা হলেন- মো. সোহেল (৪৫) সে মুছাপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মৃত হুমায়ুন কবিরের ছেলে। তিনি পেশায় সিএনজিচালক এবং আটকের সময় তার গলায় ‘ওবায়দুল কাদেরের সালাম নিন, নৌকা মার্কায় ভোট দিন’ সংবলিত মাফলার ছিল।
বাকিরা হলেন- মো. হুমায়ুন কবির (৪০): সিরাজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মোহাম্মদনগর এলাকার মৃত মনির আহমদের ছেলে। পেশায় সিএনজিচালক, শেখ ফরিদ (৪০) সে একই এলাকার মৃত সিদ্দিক মিয়ার ছেলে এবং সেও পেশায় সিএনজি চালক, সিরাজিল হক মনজু (৩৫) সে পশ্চিম মোহাম্মদনগর এলাকার মৃত সামসুল হকের ছেলে।
তিনিও সিএনজি চালক, জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) সে চরহাজারী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মৃত আবদুল হকের ছেলে। বর্তমানে কাঠমিস্ত্রি হিসেবে কর্মরত, শরিয়ত উল্লাহ (৪০) সে একই ইউনিয়নের মৃত শফি উল্লাহর ছেলে। সে পেশায় একজন কৃষক।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি নুরুল হাকিম জানান, আটককৃতরা প্রাথমিকভাবে আওয়ামী লীগের সমর্থক বলে পরিচয় দিয়েছেন। বর্তমানে তাদের পরিচয় আরও বিশদভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার নাম করে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে জড়ো হওয়ার চেষ্টার সময় তাদের আটক করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


