প্রথমবার এমপি হয়েই পূর্ণ মন্ত্রীত্ব—আব্দুল আউয়াল মিন্টুর বাজিমাত

তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় এমন একজন সদস্য রয়েছেন, যিনি একাই প্রায় ১১৭ কোটি টাকার সম্পদের মালিক। জীবনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই পেয়েছেন পূর্ণ মন্ত্রীত্ব। কে এই আলোচিত মন্ত্রী—এ প্রশ্ন এখন অনেকেরই মুখে মুখে।

প্রথমেই যার নামটি আসে, তিনি হলেন নবনিযুক্ত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু (Abdul Awal Mintoo)। অনুমান সঠিক—এই প্রথমবারের এমপিই এখন মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে।

নির্বাচনের শুরু থেকেই শীর্ষ ধনী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, দেশের এই শীর্ষ ব্যবসায়ী ও তাঁর স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়াল (Nasrin Fatema Awal)-এর নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়ায় ৬০৭ কোটি টাকা। অর্থনৈতিক সামর্থ্য ও প্রভাবের কারণে তিনি ছিলেন বিশেষভাবে নজরকাড়া প্রার্থী।

১৯৪৯ সালে ফেনী জেলার আলাইয়ারপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া মিন্টুর শিক্ষাজীবন শুরু ফেনী পাইলট হাই স্কুলে। পরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৬৮ সালে চট্টগ্রামের জুলদিয়া মেরিন একাডেমি থেকে নৌবিদ্যায় ডিপ্লোমা অর্জনের মাধ্যমে তাঁর পেশাজীবনের ভিত্তি গড়ে ওঠে। এরপর পাকিস্তান ন্যাশনাল শিপিং করপোরেশনের মালিকানাধীন বাণিজ্যিক জাহাজে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬৮ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯৭৩ সালে নিউইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে মেরিন ট্রান্সপোর্টেশনে উচ্চতর ডিগ্রি এবং ১৯৭৭ সালে এমএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর নিউইয়র্কের একটি শিপিং কোম্পানিতে প্রায় আট বছর কাজ করেন। বিদেশের অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরে ধাপে ধাপে গড়ে তোলেন বিস্তৃত ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য।

শিপিং দিয়ে শুরু হলেও তাঁর ব্যবসা বিস্তৃত হয় রেস্তোরাঁ, ব্যাংক, বিমা, জ্বালানি, সিমেন্ট, পর্যটন, শিল্প, বিপণন, বীজ ও গবাদিপশুর উন্নয়ন খাতে। দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের কাতারে উঠে আসেন তিনি। বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিবিসিআই (FBCCI)-এর সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।

শুধু ব্যবসাই নয়, লেখালেখিতেও সক্রিয় আব্দুল আউয়াল মিন্টু। অর্থনীতি, রাজনীতি ও সুশাসন নিয়ে তাঁর একাধিক বই রয়েছে, যা নীতিনির্ধারণী আলোচনায়ও গুরুত্ব পেয়েছে।

রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়েছিল আওয়ামী লীগের হাত ধরে। পরবর্তীতে তিনি যুক্ত হন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party – BNP)-এর সঙ্গে। ঢাকা মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া (Begum Khaleda Zia)-র উপদেষ্টা হিসেবেও ছিলেন। বর্তমানে তিনি দলটির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থাকলেও জনপ্রতিনিধি হিসেবে এটি তাঁর প্রথম অভিষেক। প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই পূর্ণ মন্ত্রীত্ব পাওয়াটা তাই অনেকের কাছেই বিস্ময়ের। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁকে দিয়েছেন তারেক রহমান (Tarique Rahman)।

বিদেশে অধ্যয়ন, দীর্ঘ করপোরেট অভিজ্ঞতা এবং ব্যবসায়িক সফলতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় তিনি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবেন—এমন প্রত্যাশা তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীদের। এখন দেখার বিষয়, প্রথমবারের এই মন্ত্রী কতটা দক্ষতার সঙ্গে সামলাতে পারেন তাঁর নতুন দায়িত্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *