দ্রুত ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড’ চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, বললেন জহির উদ্দিন স্বপন

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন (Zahid Uddin Swapan) জানিয়েছেন, ফ্যামিলি কার্ডের আদলে দেশের সব কৃষকের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড’ চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। মন্ত্রী জানান, স্মার্ট কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি সরকারের বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। কৃষি উপকরণ সংগ্রহে দীর্ঘদিনের মধ্যস্বত্বভোগী নির্ভরতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত আমরা আগেই নিয়েছিলাম। আজ প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রথম বৈঠক করেছেন। আমাদের অঙ্গীকার ছিল—ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষকদের জন্য আলাদা কার্ড চালু করা। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথেই আমরা এগোচ্ছি।’ তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হবে, পরে ধাপে ধাপে সারা দেশে তা সম্প্রসারিত করা হবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সভাপতিত্ব করেন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান তিনি।

কৃষকরা এই কার্ডের মাধ্যমে কী ধরনের সুবিধা পাবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সুযোগ-সুবিধা এর আওতায় আনা হবে। কৃষি জ্ঞান, সার, কীটনাশক, বীজসহ প্রয়োজনীয় উপকরণে সরকারি সহায়তা সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, উৎপাদনের সম্ভাব্য পূর্বাভাস এবং আবহাওয়ার তথ্যও সহজে পাওয়া যাবে।

তার ভাষায়, এর ফলে শুধু কৃষকই উপকৃত হবেন না, রাষ্ট্রও কৃষি খাতে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। কৃষকদের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি সহজলভ্য করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকার এখন ডিজিটাল ও স্মার্ট ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যাতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা লিকেজ না থাকে। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, একজন মোবাইল সিম ক্রেতা যেমন সরাসরি সেবা পান, তেমনি এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষক ও রাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। কোনো তৃতীয় পক্ষের প্রয়োজন হবে না।

তিনি আরও বলেন, দেশের সব কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তুতির অগ্রগতি ও অবকাঠামোগত সক্ষমতার ওপর নির্ভর করেই এর সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *