দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে শুরু হতে যাচ্ছে নতুন সংসদের যাত্রা। আগামী ১২ মার্চ থেকে বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি। সংসদ সচিবালয়ের পরিচালক (গণসংযোগ) মো. এমাদুল হক স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ আদেশ জারি করা হয়।
এতে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (Mohammad Shahabuddin) আগামী ১২ মার্চ সকাল ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এটি হবে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দের প্রথম অধিবেশন, যা নতুন সংসদের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
সংসদীয় রীতি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম দিনের কার্যসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন। এই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পূরণের পরপরই নবনির্বাচিত স্পিকারের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।
অধিবেশনের সূচনালগ্নেই রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ প্রদান করবেন। তার এই ভাষণে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, নীতি-অগ্রাধিকার এবং আগামী দিনের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার দিকনির্দেশনা উঠে আসবে বলে জানা গেছে। সংসদীয় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই ভাষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর সংসদ সদস্যরা আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর দীর্ঘ সাধারণ আলোচনায় অংশ নেবেন। এ আলোচনায় সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, উন্নয়ন অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। ফলে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নীতি-আলোচনা ও রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার ক্ষেত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।


