মন্ত্রী হিসেবে প্রথম সফরে মানিকগঞ্জে আফরোজা খানম রিতা, ফুলেল শুভেচ্ছায় উৎসবের জনসমুদ্র

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আফরোজা খানম রিতা (Afroza Khanam Rita) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা মানিকগঞ্জে পা রাখলেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) তার এই আগমন ঘিরে পুরো জেলাজুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। নেতাকর্মীদের ঢল, ফুলেল শুভেচ্ছা আর স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।

দুপুর আড়াইটার দিকে গিলন্ড মুন্নু সিটিতে অবস্থিত তার নিজ বাসভবনে পৌঁছালে হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে এলাকা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সবার শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন এবং উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে স্পষ্ট হয়ে ওঠে—মন্ত্রী হিসেবে তার এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে প্রত্যাশা অনেক বড়।

নিজের রাজনৈতিক পথচলার শেকড়ে ফিরে যাওয়ার অংশ হিসেবেই সফরের শুরুতে তিনি গিলন্ড মুন্নু সিটিতে শায়িত তার পিতা, সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্ন (Harunar Rashid Khan Monnoo)’র কবর জিয়ারত করেন। পিতার কবরের পাশে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে দোয়া করেন তিনি। উপস্থিত নেতাকর্মীরাও এ সময় নীরবতা পালন করেন।

পরে ঘিওর উপজেলার পাচুরিয়া গ্রামে গিয়ে দলের প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন (Khandaker Delwar Hossain)’এর কবর জিয়ারত করেন এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সফরের এই অংশটি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।

এর আগে দুপুর সোয়া ১টার দিকে তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। সেখানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। জেলার চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, সম্ভাবনা ও বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজ জেলা মানিকগঞ্জ (Manikganj)-এর উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। বিশেষ করে যোগাযোগ, পর্যটন ও অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের এই সংসদ সদস্যের মন্ত্রী হওয়ায় জেলাবাসী গর্বিত। তাদের প্রত্যাশা, তার হাত ধরেই জেলার উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং দীর্ঘদিনের সম্ভাবনাগুলো বাস্তবে রূপ নেবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য বিজ্ঞ পিপি নুরতাজ আলম বাহার, সত্যেন কান্ত পন্ডিত ভজন, বিশিষ্ট শিল্পপতি সত্তার খান, পৌর বিএনপির সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ যাদু, জেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বাদল, জেলা যুবদলের আহবায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু, সদস্য সচিব তুহিনুর রহমান তুহিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক জিন্নাহ খান, জেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক লিটন, জেলা ছাত্র দলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভ, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম খান সজিবসহ আরও অনেকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *