আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। নির্ধারিত দিনে বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে অধিবেশন শুরু হবে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ সচিবালয় (Jatiya Sangsad Secretariat)-এর গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর পরিচালক (উপসচিব) এমদাদুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে সরকার ১২ মার্চ অধিবেশন শুরুর ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী মাসের ১২ মার্চ অথবা এর দু-একদিন আগে বসতে পারে। এ অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ইতোমধ্যে সংসদ নেতা হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন।
সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তা করে থাকেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হয়।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও পুরোনো সংসদের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন সংসদের অধিবেশন বসে না। বিগত তিনটি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এমনটাই দেখা গেছে। দ্বাদশ সংসদের সদস্যরা ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি শপথ নিলেও প্রথম অধিবেশন বসেছিল ৩০ জানুয়ারি, কারণ একাদশ সংসদের মেয়াদ শেষ হয়েছিল ২৯ জানুয়ারি। তবে এবার সংসদ না থাকায় অধিবেশন শুরু করতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয় এবং ২৯৭টির ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি ২০৯টি এবং তাদের জোটের তিন শরিক দল ৩টি আসনে জয়ী হয়েছে। স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে। তাদের ১১ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizen Party – NCP) ৬টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (Bangladesh Khelafat Majlis) দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসনে জয়লাভ করেছে। ইসলামী আন্দোলন একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। উল্লেখ্য, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির বিদ্রোহী হিসেবে পরিচিত।


