সম্প্রতি দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। সাক্ষাৎকারটি দুই কিস্তিতে ছাপা হয়, যেখানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ের বঙ্গভবনের নানা অভিজ্ঞতা ও ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন। তবে সেই বক্তব্য নিয়েই এবার প্রশ্ন তুলেছেন ডা. শফিকুর রহমান (Dr. Shafiqur Rahman), আমীর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক (Facebook) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের বিভিন্ন দিক নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, ৫ আগস্ট-পরবর্তী ঘটনাবলি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তাতে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ই উপেক্ষিত বা আড়াল করা হয়েছে।
শফিকুর রহমান লেখেন, ৫ আগস্ট ২০২৪–এর ঘটনাকে ঘিরে রাষ্ট্রপতি যা বলেছেন, তা সম্পূর্ণ চিত্র নয়। বিশেষ করে পতিত ও পলাতক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ প্রসঙ্গে সেদিন উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে রাষ্ট্রপতি যা জানিয়েছিলেন এবং পরে জাতির উদ্দেশে যা বক্তব্য দিয়েছিলেন—বর্তমান সাক্ষাৎকারে তার সঙ্গে মিল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিনের বক্তব্য ও বর্তমান বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট অমিল রয়েছে। “তিনি সেদিন যা বলেননি, এখন তা বলছেন; আর যা বলেছিলেন, এখন তা স্বীকার করছেন না”—এমন ইঙ্গিত দেন জামায়াত আমীর। এতে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন—কোটি কোটি মানুষ সেদিন যা শুনেছে এবং রাষ্ট্রপতি নিজে যা বলেছিলেন, তার সঙ্গে বর্তমান অবস্থানের এই পার্থক্যের ব্যাখ্যা কী? রাষ্ট্রপতি কি জাতির সামনে এই হিসাব স্পষ্ট করবেন?
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, “জাতি অবুঝ নয়।” রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ থেকে দেওয়া বক্তব্যে এমন অসামঞ্জস্যতা অগ্রহণযোগ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার এই মন্তব্য প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


