প্রথমবার এমপি হয়েই তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী—হাবিবুর রশিদের বিস্ময়কর উত্থান

এবার প্রথমবারের মতো ঢাকা মহানগরীর ১৫টি আসনের মধ্যে ৭টিতে জয় পেয়েছে জামায়াত জোটের প্রার্থীরা। রাজধানীর আসনগুলোতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party) ও জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল অত্যন্ত কম। তবে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশেও ঢাকা-৯ আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত জোটের প্রার্থীকে ৫৭ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

দলের মনোনয়ন দৌড়ে শুরুতে যিনি খুব একটা আলোচনায় ছিলেন না, সেই হাবিবই শেষ পর্যন্ত নির্বাচিত হয়ে পেয়েছেন মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব। একটি বা দুটি নয়—গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে তার কাঁধে। রাজনীতির মাঠে এটি নিঃসন্দেহে এক চমকপ্রদ উত্থান।

হাবিবের বিজয়ী হওয়া ঢাকা-৯ আসনে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাপক প্রভাব ছিল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস (Mirza Abbas)-এর। তিনি নিজে পার্শ্ববর্তী ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পাশাপাশি এই আসনে প্রার্থী করতে চেয়েছিলেন তার স্ত্রী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস (Afroza Abbas)-কে। একই আসনে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন বিএনপির আরেক ত্যাগী নেতা হাবিবুন নবী খান সোহেল (Habibun Nabi Khan Sohel)। গুঞ্জন ছিল, বিএনপির সমর্থনে এখানে নির্বাচন করতে পারেন ডা. তাসনিম জারাও।

এত আলোচিত সম্ভাব্য প্রার্থীর ভিড়ে শুরুতে তেমনভাবে সামনে না এলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন পান হাবিবুর রশিদ হাবিব। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেন, মাঠে নামেন পুরোদমে।

ঢাকা-৯ আসনের সবুজবাগ এলাকায় জন্ম নেওয়া হাবিবুর রশিদ হাবিবের শিক্ষাজীবন কেটেছে রাজধানীতেই। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক এবং ঢাকা সিটি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন তিনি। পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (Jagannath University) থেকে ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পরবর্তীতে বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও সামলান। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির একজন সদস্য।

বিএনপির পরীক্ষিত, সাহসী ও ত্যাগী নেতাদের একজন হিসেবে পরিচিত হাবিবুর রশিদ হাবিব। বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময়ে তিনি ব্যাপক রোশানলের শিকার হন। হামলা, মামলা, জেল-জুলুম—সবকিছুর মধ্য দিয়েই যেতে হয়েছে তাকে। এমনকি গু’\লি’\বি’\দ্ধ হয়ে মৃ’\ত্যুর দুয়ার থেকেও ফিরে আসার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। সবশেষ নাশকতার মামলায় সাজাও হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে তিনি কারাবন্দী হন। পরে একই বছরের আগস্টে ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হলে সেইসব রাজনৈতিক মামলায় খালাস পান হাবিবুর রশিদ।

জীবনে এবারই প্রথম নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। আর প্রথম নির্বাচনেই ঢাকার আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের মধ্যে জামায়াত জোটের প্রার্থীর তুলনায় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ত্যাগী ও সাহসী রাজনৈতিক যোদ্ধা হিসেবে দীর্ঘ পথচলার স্বীকৃতি যেন মিলেছে এই ফলাফলে।

জীবনের প্রথম এমপি হয়েই তাকে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। এক নির্বাচনী জয় থেকে সরাসরি তিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব—রাজনীতির অঙ্গনে হাবিবুর রশিদ হাবিবের উত্থান তাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *