জানমাল সুরক্ষা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার আহ্বান: জামায়াত আমীর

জনগণের জানমাল রক্ষা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব ও ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন ডা. শফিকুর রহমান (Dr. Shafiqur Rahman)। তিনি বলেন, একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয়, জনবান্ধব ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে মিরপুরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (Barrister Mir Ahmad Bin Kasem) এবং ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল বাতেন (Abdul Baten)। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর সেলিম উদ্দিন, নায়েবে আমীর আবদুর রহমান মুসাসহ সংশ্লিষ্ট দুই আসনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।

মতবিনিময় সভায় ঢাকা-১৪ ও ঢাকা-১৬ নির্বাচনী এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। নাগরিক নিরাপত্তা জোরদার, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় করণীয় বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব ও মতামত তুলে ধরা হয়। মাঠপর্যায়ে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনার দিকগুলো সংসদ সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা খোলামেলা আলোচনা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে বাহিনীকে আরও কার্যকর ও জনমুখী ভূমিকা পালন করতে হবে। একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও সততা অপরিহার্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম এবং ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল বাতেন এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন। তারা চলমান বিশেষ অভিযান, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে উপস্থিত সবাইকে অবহিত করেন। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকাগুলোকে আরও নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সভার সমাপ্তি ঘটে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *