দীর্ঘ ৪০ বছর পর জাতিসংঘের আসন্ন ৮১তম সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়বে বাংলাদেশ। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশন অনুষ্ঠানে গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভোটের প্রচার-প্রচারণা শুরু করে।
বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই পদের প্রার্থীতা দুইবার পরিবর্তন হয়ে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের এই পদে জয়ের জন্য লড়বেন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘের আসন্ন ৮১তম সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার বিষয়ে বাংলাদেশ গত ৪/৫ বছর আগে সিদ্ধান্ত নেয়। তখন রাজনৈতিত দল আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বে ছিল এবং প্রার্থী ছিলেন ওই সময়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের পট পরিবর্তন হওয়ার পর অর্ন্তবর্তী সরকারও জাতিসংঘের এই পদে ভোট করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং প্রার্থী ছিলেন অর্ন্তবর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
সর্বশেষ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করলে তারাও জাতিসংঘের এই ভোটে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেয় এবং প্রার্থী হিসেবে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
জাতসিংঘের এই নির্বাচনে বাংলাদেশ সাইপ্রাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দিতা করবে। ফিলিস্তিন প্রথমে এই পদে লড়াইয়ের ঘোষণা দিলেও শেষ মুহুর্তে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ঢাকার কূটনীতিকরা আসন্ন ভোটে জয়ী হওয়ার জন্য আশাবাদি। কেননা, জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ভালো এবং সাধারণ পরিষদের বেশিরভাগ সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো সম্পর্ক বিদ্যমান।
এর আগে, বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী এই পদে নির্বাচন করে নিরংকুশ জয় পেয়েছিলেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা, শান্তিরক্ষা মিশনে অবদান এবং প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশের পক্ষে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনো রাষ্ট্র বা জাতিসংঘের সদস্যের অভিযোগ নাই। এই দিক দিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি যেমন উজ্জ্বল, ঠিক তেমনি বাংলাদেশের প্রার্থীরও ভাবমূর্তিও ভালো। এ ছাড়া, এমন ধরনের নির্বাচনে এর আগে বাংলাদেশ জাপানসহ একাধিক বন্ধু রাষ্ট্রকে ছাড় দিয়েছিল। যা আসন্ন ভোটে কাজে দিবে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘে সাধারণত পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপ থেকে পালাক্রমে সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট পদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এবারের পালা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের। এই গ্রুপ থেকেই এবার দুইজন প্রার্থী ভোটে প্রতিদ্বন্দিতা করছে।


