অধিকৃত ফিলিস্তিন সংযুক্তির ইসরায়েলি আইনকে ঘিরে বাংলাদেশের তীব্র নিন্দা

সম্প্রতি অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ড নিজেদের সঙ্গে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে ভূমি-সংক্রান্ত নতুন আইন প্রণয়ন করেছে ইসরায়েল (Israel)। এই আইনকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ (Bangladesh)।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (OIC)-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের উন্মুক্ত নির্বাহী কমিটির বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে এ অবস্থান স্পষ্ট করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান (Dr. Khalilur Rahman)।

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সংযুক্ত করার উদ্দেশ্যে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ভূমি ক্রয়সংক্রান্ত আইনকে দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, ১৯৬৭ সালের সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন (Palestine) রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই চলমান সংকটের একমাত্র টেকসই ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এই আইন মূলত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের আইনগত ও জনমিতিক চরিত্র পরিবর্তনের লক্ষ্যেই গৃহীত হয়েছে। এর আওতায় রয়েছে আল-কুদস আল-শরিফ (Al-Quds Al-Sharif)-ও। তার ভাষায়, এটি কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং একটি সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক পদক্ষেপ, যার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে।

গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পশ্চিম তীরে ভূমি ক্রয় প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ভূমি নিবন্ধন উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনি ভূমির মালিকদের ভীতি, অনিশ্চয়তা ও হয়রানির ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ন্যায়ভিত্তিক ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী দুই-রাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই দীর্ঘদিনের এই সংকটের কার্যকর সমাধান হতে পারে। ইসরায়েলের ভূমি-সংক্রান্ত আইন প্রত্যাখ্যান করে ফিলিস্তিনিদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

একইসঙ্গে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবি জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তাকর্মীদের জন্য অবাধ ও শর্তহীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত নারী, পুরুষ ও শিশুদের কাছে জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, মানবিক বিপর্যয়ের অবসান এবং ন্যায়সংগত রাজনৈতিক সমাধান—এই দুই পথই এখন সময়ের দাবি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *