বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে থাকছে চমক !!

সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বিএনপি। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৩৬টি পাবে বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party), ১২টি জামায়াত, ১টি এনসিপি এবং ১টি স্বতন্ত্র প্রার্থী।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয়, কারাবরণকারী, আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী এবং তৃণমূল সংগঠন শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখা নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। একই সঙ্গে পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও সাবেক ছাত্রনেত্রীদেরও বিবেচনায় রাখা হতে পারে। যেসব আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হতে পারেননি, সেসব এলাকার নারী নেত্রীদেরও প্রাধান্য দেওয়ার ভাবনা রয়েছে।

সংরক্ষিত নারী আসনে কারা মনোনয়ন পাবেন—এ নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং গুলশানে চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নেত্রীদের উপস্থিতি বাড়ছে। মনোনয়ন পেতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেত্রী আগ্রহ দেখাচ্ছেন। অনেকে ঢাকায় অবস্থান করে দলের শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ করছেন। মনোনয়নবঞ্চিত বা পরাজিত প্রার্থীদের পাশাপাশি তরুণ নেত্রীরাও আলোচনায় আছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের হাইকমান্ড।

সূত্র জানায়, শুধু সুপারিশ নয়; মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক ভূমিকা এবং অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডই মনোনয়নের ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য হবে। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সদস্য বলেন, প্রাথমিকভাবে একটি বড় তালিকা প্রস্তুত করা হবে। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুমোদন ছাড়া কোনো তালিকা চূড়ান্ত হবে না।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় জ্যেষ্ঠ ও কেন্দ্রীয় নেত্রীদের বেশ কয়েকটি নাম ঘুরছে আলোচনায়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান, বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন, কেন্দ্রীয় নেত্রী শিরিন সুলতানা, মহিলা দল সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্মসম্পাদক হেলেন জেরিন খান এবং সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী।

এ ছাড়া সাবেক এমপি শাম্মী আকতার, নিলোফার চৌধুরী মণি, আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু, ইয়াসমিন আরা হক, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম ও ফরিদা ইয়াসমিনের নামও আলোচনায় রয়েছে।

সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকেও কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে—কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভিন ও কনকচাঁপা। পাশাপাশি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসীম উদ্দীন মওদুদের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। এছাড়া সাংবাদিক প্রতিনিধি হিসেবে শাহনাজ পলির নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।

ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায়চৌধুরী, বিএনপি নেত্রী অপর্ণা রায়, অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, মহিলা দলনেত্রী শাহানা আকতার সানু, নিয়াজ হালিমা আর্লি ও রাবেয়া আলমের নামও আলোচনায় এসেছে।

ঝালকাঠি জেলা বিএনপি নেত্রী জেবা আমিন খান, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, ময়মনসিংহ জেলা মহিলা দল সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেত্রী তানজিন চৌধুরী লিলি, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা উর্মি ও শাহিনুর সাগরের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।

এ ছাড়া ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মরহুম শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হুসাইন, ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী এবং সিলেটের সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেনের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। এই দৌড়ে এগিয়ে আছেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম এবং ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী ও সাবেক এমপি হাসিনা আহমদের নামও এ তালিকায় উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে এসেছে। আলোচনায় আছেন রুমানা মাহমুদও।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান এ প্রসঙ্গে বলেন, যারা দুঃসময়ে দলের পতাকা ধরে রেখেছিলেন এবং বারবার কারাবরণ করেছেন, তাদের মূল্যায়ন করাই হবে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এবারের সরকার অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ‘পারফরম্যান্স ওয়ান্টেড’ বা কর্মদক্ষতা নির্ভর। সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি এবার যে আসন পেতে যাচ্ছে, তা কেবল সংখ্যার হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক গুণগত পরিবর্তনের সূচক হিসেবে কাজ করবে।

তারেক রহমানের ঘনিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, মন্ত্রী পরিষদের মতো নারী আসনেও থাকবে চমক। তেমন আলোচনায় না থাকলেও মনোনয়ন পেয়ে যেতে পারেন রাজপথে থাকা ৫/৬ নারী নেত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *