সালাহউদ্দিন আহমদ (Salahuddin Ahmed) বলেছেন, পুলিশ হ’\ত্যা’\র বিচার নিয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী কী মন্তব্য করেছেন—সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেন, তিনি নিজে এমন কোনো বক্তব্য দেননি। জুলাই ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে অধ্যাদেশ জারি হয়েছে বলেও জানান তিনি। শুধু তাই নয়, জুলাই সনদেও এ বিষয়ে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত রয়েছে—সরকার সেই নীতির ভিত্তিতেই অবস্থান করছে।
রোববার (১ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী মাঠে ছিল। ভবিষ্যতে সশস্ত্র বাহিনী মাঠে থাকবে কি না, তা সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করেই নির্ধারণ করা হবে। তার ভাষায়, তারাও দীর্ঘসময় মাঠে থাকতে চায় না। সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
র্যাবের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। র্যাব (Rapid Action Battalion) বিলুপ্তি কিংবা নাম পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, বাস্তবতার নিরিখেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তারপর সরকার চূড়ান্ত অবস্থান নেবে। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিবেশী সম্পর্ক ও সীমান্ত ইস্যু
মন্ত্রী জানান, ভারতীয় হাইকমিশনার (Indian High Commissioner) সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত (India)-এর সঙ্গে বাংলাদেশের লেনদেন ও যাতায়াত রয়েছে। বৈঠকে নিরাপত্তা ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, পারস্পরিক সমমর্যাদার ভিত্তিতে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষভাবে সীমান্তে হ’\ত্যা যেন না ঘটে, সে বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতীয় পক্ষ আশ্বাস দিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। টুরিস্ট ভিসা ধাপে ধাপে বাড়ানোর বিষয়েও ইতিবাচক অগ্রগতির কথা জানান মন্ত্রী।
সংসদে আসছে ১৩৩ অধ্যাদেশ
সংসদ (National Parliament)-এর প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ ও একটি আদেশ উত্থাপন করা হবে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। এর মধ্যে কোনটি গৃহীত হবে, কোনটির আংশিক সংশোধন হবে কিংবা কোনটি বাতিল হবে—তা সংসদীয় আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
ফায়ার সার্ভিসে নতুন নিয়োগ, নিরাপত্তা জোরদার
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ফায়ার সার্ভিস (Fire Service)-এর বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক অগ্নিদূর্ঘটনার পর সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তার মতে, কোনো উপজেলায় যেন ফায়ার সার্ভিসের অফিস ছাড়া না থাকে—সেই লক্ষ্যেই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ খাতে নতুন নিয়োগও দেওয়া হবে।
তবে অতীতে এ খাতে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি, যা ভবিষ্যতে কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে বলে ইঙ্গিত দেন।


