ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে কারচুপির অভিযোগ আমলে নিয়ে রাজশাহী-৪ ও পাবনা-৪ আসনের ব্যালট পেপার এবং ফলাফলের রেজাল্ট শিট হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট (High Court Division)। নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে এ আদেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি মো. জাকির হোসেন (Justice Md. Zakir Hossain)-এর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনি আপিল ট্রাইব্যুনাল আবেদনগুলো গ্রহণ করে এই নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বিষয়টির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১১ মে দিন ধার্য করা হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট আসন দুটিতে নির্বাচন-পরবর্তী বিতর্ক এখন বিচারিক পর্যালোচনার অধীনে চলে গেল।
এদিকে আরও তিনটি আসনে কারচুপির অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami) হাইকোর্টে আবেদন করেছে। আসনগুলো হলো— ঢাকা-৬, ঢাকা-৭ এবং গাইবান্ধা-৪। অন্যদিকে শেরপুরের একটি আসনে অনিয়মের অভিযোগ এনে পৃথক আবেদন করেছে বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party)। এসব আবেদনে ভোটের ফলাফল পুনঃগণনার দাবি জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
আদালত একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর নির্বাচনি সরঞ্জামাদি নির্বাচন কমিশন (Election Commission)-এর হেফাজতে সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি ওই আসনগুলোর বিজয়ী প্রার্থীদের নোটিশ জারি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
এর আগে ঢাকা-৬, ঢাকা-৭, গাইবান্ধা-৪ এবং শেরপুর-১ আসনে কারচুপির অভিযোগ তুলে পরাজিত প্রার্থীরা হাইকোর্টে আবেদন করেন। আবেদনে ভোটের ফল পুনঃগণনার পাশাপাশি নির্বাচনি অনিয়মের বিচারিক তদন্তের আর্জি জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনি অনিয়মসংক্রান্ত আবেদন শুনানির জন্য হাইকোর্টে একটি নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চ এসব আবেদনের শুনানি গ্রহণ করবেন। ফলে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আইনি লড়াই এখন আনুষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।


