ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এ পর্যন্ত তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, নিহত তিন সেনা ‘কিলড ইন অ্যাকশন’ (কেআইএ)—অর্থাৎ সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া এই অভিযানে আরও পাঁচ মার্কিন সেনা সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। সামরিক নীতিমালা অনুযায়ী, নিহতদের পরিবারকে জানানোর ২৪ ঘণ্টা পার না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হবে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আরও কয়েকজন সামান্য আঘাত পেয়েছেন এবং তাঁদের পুনরায় কাজে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চলমান রয়েছে এবং পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আগেই সতর্ক করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আমাদের বীর সেনাদের জীবন উৎসর্গ হতে পারে এবং হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। যুদ্ধে প্রায়ই এমনটি হয়ে থাকে।”
ইরানি যুদ্ধজাহাজে হামলা
একই বিবৃতিতে সেন্টকম জানিয়েছে , ওমান উপসাগরে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। জামারান-শ্রেণির ওই করভেট বর্তমানে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের চাবাহার বন্দরের কাছে ডুবে যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চারটি ক্ষেপণাস্ত্র রণতরিটিতে আঘাত হেনেছে। আল জাজিরার লাইভ আপডেটেও ইরানের হামলায় তিন মার্কিন সৈন্য নিহতের খবর উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে তেহরানের সরাসরি সামরিক মুখোমুখি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।


