মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর সহকারী মন্ত্রী পল কাপুর (Paul Kapur) তিন দিনের সরকারি সফরে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে ঢাকায় পৌঁছেছেন। দিল্লি সফর শেষে তিনি সরাসরি রাজধানীতে আসেন। তার এই সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে, কারণ এটি শুধু রাজনৈতিক পর্যায়ের সৌজন্য সফর নয়— বরং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এতে সামনে আসছে।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, সফরটি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রশ্নও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে মিয়ানমার পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গা সংকট, এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উদ্ভূত পরিস্থিতি— এসব ইস্যু বৈঠকের টেবিলে উঠবে বলে জানা গেছে।
বুধবার (৪ মার্চ) পল কাপুরের ব্যস্ত দিনসূচি রয়েছে। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান (Dr. Khalilur Rahman), অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (Amir Khasru Mahmud Chowdhury), জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
একই দিন সন্ধ্যায় তিনি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এই বৈঠককে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি গন্তব্য এবং কৌশলগত অংশীদার।
সফরের শেষ দিন বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন পল কাপুর। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময়ের কথা রয়েছে তার। সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি, যেখানে কূটনৈতিক মহলের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন।
পল কাপুরের সফর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস (U.S. Embassy in Bangladesh)-এর মুখপাত্র পূর্ণিমা রায় জানিয়েছেন, এই সফরের মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা। তিনি বলেন, সফরকালে নতুন সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন পল কাপুর। আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে (ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল) অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় পল কাপুরের এই সফর দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।


