অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizen Party)–এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির আভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি উপদেষ্টার পদ ছাড়ার পর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণার পর সেই সমালোচনার মাত্রা আরও বেড়ে যায়। রাজনৈতিক অঙ্গনে চলতে থাকে জল্পনা-কল্পনা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয় নানা আলোচনা।
এই প্রেক্ষাপটে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা আভিযোগের সরাসরি জবাব দিতে প্রকাশ্যে ব্যাংক স্টেটমেন্ট তুলে ধরেছেন আসিফ মাহমুদ।
বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি শুধু নিজের নয়, পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাবও জনসমক্ষে উপস্থাপন করেন। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের সময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে নিজের আয় ও সম্পদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জমা দিয়েছেন।
তবে এরপরও যখন এ নিয়ে নানা জল্পনা ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে, তখন জনগণের সামনে সবকিছু স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলেই তিনি মনে করেন। তার ভাষায়, “আমি মনে করছি, আমার এবং আমার পরিবারের সবার ব্যাংক হিসাব জনগণের সামনে উন্মুক্ত করে দেওয়া উচিত। যাতে এ বিষয়গুলো নিয়ে কেউ কোনো ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে।”
তিনি আরও জানান, প্রথমে শুধু নিজের ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু পরে ভাবেন, পরিবারের হিসাব প্রকাশ না করলে প্রশ্ন থেকে যেতে পারে। তাই সবার হিসাব একসঙ্গেই তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার বাবার আর্থিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য দেন। আসিফ মাহমুদের দাবি, তার বাবার পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে এবং এসব অ্যাকাউন্টে মোট জমা আছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা। তবে তিনি উল্লেখ করেন, তার বাবা একজন শিক্ষক হিসেবে ১০ লাখ টাকার একটি সার্ভিস লোন নিয়েছিলেন। সেই ঋণের কিস্তি প্রতি মাসে বেতন থেকে কেটে নেওয়া হয়। বর্তমানে ওই সার্ভিস লোনের বকেয়া রয়েছে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৬ টাকা। সব হিসাব মিলিয়ে তার বাবা এখনো প্রায় ৮২ হাজার ৩৫ টাকার দেনায় আছেন বলে তিনি জানান।
মায়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার মায়ের একটি মাত্র ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যেখানে জমা আছে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা। এছাড়া তার স্ত্রীর একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রয়েছে মাত্র ৬১৩ টাকা।
নিজের আর্থিক হিসাব তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, তার দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এর মধ্যে একটি ব্যক্তিগত সেভিংস অ্যাকাউন্ট সোনালি ব্যাংক (Sonali Bank)–এ, যেখানে বর্তমানে জমা আছে ৯ হাজার ৯৩০ টাকা। অন্যটি তার সেলারি অ্যাকাউন্ট, যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালীন বেতন, যাতায়াত ভাতা ও অন্যান্য সরকারি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি জানান, তিনি মোট ১৬ মাস দায়িত্বে ছিলেন। গড়ে মাসিক বেতন ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। ভাতা ও অন্যান্য লেনদেনসহ সব অর্থ এই সেলারি অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। বর্তমানে ওই অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৬ টাকা। তার হিসাব অনুযায়ী, এই অ্যাকাউন্টে মোট ক্রেডিট হয়েছে ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা এবং ডেবিট হয়েছে ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা।
সব মিলিয়ে তার দুইটি অ্যাকাউন্টে মোট জমা রয়েছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫৫৬ টাকা।
ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশের মাধ্যমে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা আভিযোগের অবসান ঘটবে বলেই প্রত্যাশা করছেন আসিফ মাহমুদ। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ পদক্ষেপ কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।


