স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে মাত্র ৬১৩ টাকা—দুর্নীতির অভিযোগে ব্যাংক হিসাব প্রকাশ করলেন আসিফ মাহমুদ

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করে বিস্তারিত আর্থিক তথ্য সামনে এনেছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া (Asif Mahmud Sajeeb Bhuiyan)। জাতীয় নাগরিক পার্টির (National Citizen Party) মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা শুধু নিজের নয়, পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাবও জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন। তার ভাষায়, “কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা জল্পনার অবকাশ রাখতে চাই না বলেই” এই সিদ্ধান্ত।

বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য প্রকাশ করেন। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের সময় তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সম্পদের পূর্ণ বিবরণ জমা দিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ ছাড়ার সময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ (Cabinet Division)-এর কাছে আমার আয় ও সম্পদের সম্পূর্ণ বিবরণী পেশ করেছি। এরপরও যেহেতু নানা ধরনের জল্পনা চলছে, তাই আমি মনে করেছি আমার এবং আমার পরিবারের সবার ব্যাংক হিসাব জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা প্রয়োজন।”

প্রথমে কেবল নিজের ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশের ঘোষণা দিলেও পরে সিদ্ধান্ত বদলান তিনি। তার ভাষায়, “মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আমি শুধু আমার ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশের কথা বলেছিলাম। কিন্তু পরে ভাবলাম, পরিবারের সবার হিসাব প্রকাশ করলে আর কোনো প্রশ্ন অবশিষ্ট থাকবে না।”

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যদের আর্থিক অবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরেন সাবেক এই উপদেষ্টা। তিনি জানান, তার বাবার পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এই পাঁচটি হিসাবে মোট জমা রয়েছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা। তবে তার বাবা শিক্ষক হিসেবে ১০ লাখ টাকার একটি সার্ভিস লোন নিয়েছিলেন। বর্তমানে সেই ঋণের বকেয়া রয়েছে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৬ টাকা, যা প্রতি মাসে বেতনের মাধ্যমে কেটে নেওয়া হচ্ছে। সব হিসাব মিলিয়ে তিনি বলেন, “ক্রেডিট থেকে বকেয়া বাদ দিলে এখনো প্রায় ৮২ হাজার ৩৫ টাকার মতো দেনা রয়ে গেছে।”

তার মায়ের একটি মাত্র ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যেখানে জমা আছে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা। আর তার স্ত্রীর একটি অ্যাকাউন্টে রয়েছে মাত্র ৬১৩ টাকা—এই তথ্যটি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি।

নিজের ব্যাংক হিসাব সম্পর্কে আসিফ মাহমুদ জানান, তার দুটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এর একটি সোনালী ব্যাংক (Sonali Bank)-এ ব্যক্তিগত সেভিংস অ্যাকাউন্ট, যেখানে বর্তমানে জমা আছে ৯ হাজার ৯৩০ টাকা। অন্যটি তার সেলারি অ্যাকাউন্ট, যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের (Interim Government) উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে যাতায়াত ভাতা ও অন্যান্য সরকারি ভাতার লেনদেন হতো।

তিনি জানান, ১৬ মাস দায়িত্ব পালনকালে তার গড় মাসিক বেতন ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। ভাতাসহ সব লেনদেন ওই সেলারি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সেই অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৬ টাকা। মোট ক্রেডিট হয়েছে ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা এবং ডেবিট হয়েছে ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে তার দুটি অ্যাকাউন্টে মোট জমা রয়েছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫৫৬ টাকা।

সমালোচনার মুখে দাঁড়িয়ে নিজের আর্থিক অবস্থার এই খোলামেলা উপস্থাপনকে তিনি স্বচ্ছতার অংশ বলেই দাবি করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *