মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া ইরান (Iran)–ইসরায়েল (Israel) সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি আঘাত হেনেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপর। চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যে এখন পর্যন্ত চারজন বাংলাদেশি নি’\হত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও প্রায় ১৪ জন। এরই মধ্যে দুবাইয়ে নি’\হত প্রবাসী আহমেদ আলীর মরদেহ সোমবার সকালে দেশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের রিয়াদে নি’\হত আরও দুই বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সরকার।
সোমবার সকালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Hazrat Shahjalal International Airport)-এ আহমেদ আলীর মরদেহ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক (Md. Nurul Haque)।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত চারজন বাংলাদেশি নি’\হত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বাহরাইনে একজন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একজন এবং সৌদি আরবে দুইজন নি’\হত হয়েছেন।
তিনি বলেন, রিয়াদে নি’\হত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং তা দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই সরকার পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। বিশেষ করে সংঘাতের কারণে অনেক ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া যাত্রীদের থাকা–খাওয়া এবং অন্যান্য সমস্যার সমাধানে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে।
তিনি বলেন, সৌদি আরবে নি’\হত দুই প্রবাসীর পরিবারের সঙ্গেও ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। নি’\হতদের একজন টাঙ্গাইলের বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া এবং অন্যজন কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সহমর্মিতা জানানো হয়েছে এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৪ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো আহতদের চিকিৎসা এবং অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংঘাতপূর্ণ এলাকা এবং সম্ভাব্য আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে এমন স্থানগুলো এড়িয়ে চলা জরুরি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ যে নিরাপত্তা নির্দেশনা দিচ্ছে—বিশেষ করে সতর্কতামূলক সাইরেন ও জরুরি নির্দেশনা—তা কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেন তিনি।
একই সঙ্গে প্রবাসীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে, সেসব দেশের আইনবিরোধী বা সংবেদনশীল কোনো কনটেন্ট সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
এর আগে সোমবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনস (Emirates Airlines)-এর ইকে–৫৮২ ফ্লাইটে নি’\হত আহমেদ আলীর মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণের সময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম (Shama Obaid Islam) এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্ল্যা ভূঁইয়া।
এ সময় নি’\হতের স্বজনরাও বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। মরদেহ গ্রহণের পর তা পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
নি’\হত আহমেদ আলী মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার বাসিন্দা। তিনি সালেহ আহমেদ নামেও পরিচিত ছিলেন। মরদেহ গ্রহণের পর তা সিলেট হয়ে তাঁর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানেই দাফন সম্পন্ন করা হবে।
বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, একজন প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে আসা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা বাংলাদেশের কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং বিদেশে থাকা প্রবাসীদের পাশে থাকার জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, রিয়াদে নি’\হত আরও দুই বাংলাদেশির পরিবারের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাঁদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার কাজও চলছে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান সংঘাতের দ্রুত অবসান ঘটবে এবং ভবিষ্যতে আর কোনো বাংলাদেশির প্রাণহানি ঘটবে না।
প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্ল্যা ভূঁইয়া, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


